তমাল পাল:‌ বয়স মাত্র ২০!‌ উপার্জন শুরু ১৭ বছর বয়সে। আর এই বয়সেই মাত্র তিন বছরে ১২ লক্ষ টাকা রোজগার করে ফেলেছেন তিনি। দমদমের তরুণ দীপায়ন দাস এই বিপুল অর্থের সবটাই রোজগার করে ফেলেছেন স্রেফ কম্পিউটার গেম্‌স খেলে!‌ বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, চেন্নাই, ভুবেনশ্বর, হায়দরাবাদের মতো ভারতের প্রায় সমস্ত বড় শহরেই কম্পিউটার গেম্‌সের টুর্নামেন্টে ডাক পড়ে দীপায়নের। কখনও একা, কখনও দলগত গেম্‌স— এভাবেই অজস্র পুরস্কার জিতে নিয়েছেন দীপায়ন। পাশাপাশি পড়াশুনোও চালিয়ে যাচ্ছেন দীপায়ন। বিবিএ পড়ছেন একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। স্কুল, টিউশন ফাঁকি দিয়ে ক্যাফেতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম্‌স খেলে সময় কাটাননি এমন বাঙালি ছাত্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু, স্কুল, কলেজের জীবন শেষ হলেই সেই গতানুগতিক চাকরি জীবনে ঢুকে পড়া— বেশিরভাগ গেম্‌সপ্রেমীর ভবিতব্য এটাই। পেশার চাপে তখন কোথায় আর গেম্‌স, কোথায়ই বা সময়?‌ কিন্তু চালু ধারার থেকে একটু ভিন্নপথে হেঁটে এই গেম্‌সকেই পেশা বানিয়ে ফেলে সকলকে চমকে দিয়েছেন দীপায়ন।
তিনি বললেন, ‘‌গেম্‌স খেলার জন্য আমাকে কম বকুনি খেতে হয়নি। কিন্তু আমি এটাই করতে চেয়েছিলাম এবং এটাই করব।’‌ দমদম সুভাষনগর বিদ্যালয়ের ছাত্র দীপায়নের গেম্‌সের প্রতি নেশাটা শুরু হয়েছিল নবম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীনই। হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে গেম্‌সে বুঁদ হয়ে যেতেন তিনি। ‘‌যে নতুন গেম আসতো, সেটাই খেলতাম। কখনও একা, কখনও দলগত গেম্‌স সবই খেলেছি। মূলত শ্যুটিং গেম্‌স খেলতেই সবচেয়ে ভাল লাগত,’ বললেন দীপায়ন। আরও বললেন, ‘‌‌আজ থেকে দু’বছর আগে, যখন আমি কাউকে বলতাম যে গেম্‌স খেলে রোজগার করছি, তখন লোকজন ভাবত যে আমি জুয়া খেলি। কেউ বিশ্বাসই করতে চাইত না যে গেম্‌স খেলেও টাকা পাওয়া যায়।’‌ আরও একধাপ এগিয়ে দীপায়নের দাবি, ক্রিকেটার, ফুটবলারের মতো গেমাররাও ‘‌সেলেব্রেটি’‌।
তবে দীপায়ন মনে করেন, ‘আস্তে আস্তে সময় পাল্টাচ্ছে। ইউটিউব, টেলিভিশন— সব প্রচার মাধ্যমেই এখন গেম্‌সের প্রচার হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছেন যে গেম্‌স খেলাও একটা ভিন্নধারার পেশা হতে পারে। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে মূলত ‘‌কাউন্টার স্ট্রাইক গ্লোবাল অফেন্সসিভ’‌ গেমটিই টুর্নামেন্টে খেলেন দীপায়ন। খেলেন এই মুহূর্তে অন্যতম জনপ্রিয় গেম পাবজি–ও। টুর্নামেন্টে জেতা অর্থ দিয়ে নিজের খরচ চালান দীপায়ন। তিনি বললেন, ‘‌আমার বাবা বরাবরই চাইতো, আমি নিজের ক্ষমতায় সুপ্রতিষ্ঠিত হই। অতিরিক্ত কোনও সাহায্য করতে রাজি ছিল না। তবে শুরুতে পরিবারের কোনও সদস্যই পাশে ছিলেন না। এখন আস্তে আস্তে সবাই মেনে নিয়েছে। এখন নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি গেমিং টুর্নামেন্টে জেতা টাকা দিয়েই কম্পিউটারের অত্যাধুনিক যন্ত্রাংশ কিনি। ভবিষ্যতে আরও টুর্নামেন্ট জিততে চাই। প্রমাণ করতে চাই, কম্পিউটার গেম্‌স খেলেও জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়।’‌