নিউজপোল ডেস্ক: গাছের গায়ে লাগানো পোস্টার। তাতে গাছের হয়েই আর্জি লেখা, ‘আমার গায়ে পেরেক মারবেন না।’ কী করুণ পরিস্থিতি! রাস্তাঘাটে চোখ খুলে চললেই দেখা যায় গাছের গায়ে সাঁটা বিজ্ঞাপনের পোস্টার, ফেস্টুন কিংবা জড়ানো কেবলের তার। সরকারের তরফে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তার বহু আগে থেকে একা হাতে এই দায়িত্ব সামলে চলেছেন গোবরডাঙার বিশ্বজিৎ ঘোষ। ওরফে মানিক। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন ‘পেরেক মানব’।

গাছেরও প্রাণ আছে! সে তো বইয়ের পাতায় বন্দি। বাস্তবে অন্য ছবি দেখেছিলেন বিশ্বজিৎ। অনুভব করেছিলেন গাছের অব্যক্ত কষ্টের কথা। তাছাড়া ছোটবেলা থেকেই গাছগাছালির প্রতি তাঁর নিবিড় টান। গাছের গায়ে পেরেক পোঁতা দেখলে বিশ্বজিতের মনও কেঁদে উঠত। সেখান থেকেই শুরু হল লড়াই। সাইকেলে চেপে স্থানীয় এলাকায় ঘুরে ঘুরে নিজে হাতেই পেরেক তুলতে লাগলেন তিনি। এমনকী, গাছের ওই ক্ষতস্থান সারানোর বন্দোবস্তও করলেন তিনি। এভাবে বেশ কিছুদিন চলল। কিন্তু চারদিকে এরকম এত ঘটনা চোখে পড়ত যে একা বিশ্বজিতের পক্ষে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এসব কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার শরণাপন্ন হন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘স্বপ্নের শহর গোবরডাঙা’ নামে একটি দল। তাঁদের সমবেত প্রচেষ্টায় ছড়িয়ে পড়তে লাগল এই খবর। বিশ্বজিৎ হয়ে উঠলেন ‘পেরেক মানব’। ১ জুলাই সদলবলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদও করেন তিনি। গোবরডাঙা স্টেশন চত্বর ছাড়াও আশেপাশের এলাকার গাছে লাগানো পোস্টার, ফেস্টুন তুলে ফেলেন তাঁরা। ‘পেরেক মানব’ বিশ্বজিতের শ্লোগানই হল, ‘পেরেক নয়, গাছ পুঁতুন’।

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ নিয়ে আমরা এতটাই চিন্তিত যে গাছের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই না। সাইনবোর্ড, তার, দড়ির চাপে দমবন্ধ হয়ে আসে গাছেরও। আমরা খেয়াল রাখি না। সরকারের তরফে যে উদ্যোগের কথা আজ ভাবা হচ্ছে, তা একা হাতে শুরু করেছিলেন অনেক আগেই। তাই এই অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে বিশ্বজিৎ একটা দৃষ্টান্তের নাম।