নিউজপোল ডেস্ক:‌ পাকিস্তান থেকে সৌদি আরব হয়ে ফোনটা যখন এসেছিল, এতটুকু ঘাবড়াননি তনভি মারওয়া। একটাই কথা বলেছিলেন পাকিস্তানের হাতে আটক স্বামী অভিনন্দনকে। ‘‌ওদের চায়ের রেসিপিটা নিয়ে এস’‌।
পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতে বালাকোটে ঢুকে জঙ্গি শিবির ধ্বংস করে ভারতীয় বায়ুসেনা। তার পরই পাকিস্তানের একটি বিমান সীমা লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে গেলে তাকে ধাওয়া করে ভারতের মিগ–২১। সেই করতে গিয়েই ২৭ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধবিমানটি সীমান্তের ওপারে ভেঙে পড়ে। বন্দী হন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। ৬০ ঘণ্টা পর তাঁকে ওয়াগা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরিয়ে দেয় পাকিস্তান। মাঝের ওই সময়টা কেমন কেটেছিল অভিনন্দনের?‌
জানা গেছে, হেফাজতে তাঁর সঙ্গে ‘‌গুড কপ ব্যাড কপ’‌ নীতি অবলম্বন করে আইএসআই। এক পাক অফিসার এসে অভিনন্দনের বুকে ঘুসি মারেন। আর এক জন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানোর জন্য ফোন ধরিয়ে দেন। এটা যে আইএসআই–এর ছক, বুঝতে পারেন বায়ুসেনার প্রাক্তন পাইলট তনভিও। গোটা কল রেকর্ড করে রাখেন তিনি। কী কথা হয় দু’‌জনের?
স্বামীকে এতটুকু চাপে ফেলতে চাননি। তাই তনভি এমন ভান করেন, যেন কিছুই হয়নি।
ফোনে স্বামীকে জিজ্ঞেস করেন, ‘‌ছেলে–মেয়েদের কী বলব?‌ ওদের বাবা কোথায়?‌’‌ উত্তরে অভিনন্দন বলেন, ‘‌বলবে ওদের বাবা জেলে’‌। এর মধ্যেই তানভি অভিনন্দনের চা পানের ভিডিওর কথা তোলেন। বলেন, ‘‌চা কেমন ছিল’‌?‌ অভিনন্দন বলেন, ‘‌ভাল ছিল’‌। তনভি প্রশ্ন, ‘‌আমার থেকেও ভাল’‌?‌ অভিনন্দন বলেন, ‘‌হ্যাঁ। ভাল।’‌ তনভি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘‌তাহলে রেসিপিটা নিয়ে এস’‌।
এতদিনে দু’‌জনের সেই কথোপকথন সামনে এল। আরও জানা গেছে, হেফাজতে অভিনন্দনের বুকে ঘুসি মারেন এক পাক অফিসার। সম্ভবত সে কারণেই তাঁর পাঁজর ভেঙে গেছে। আগে মনে করা হচ্ছিল, বিমান থেকে পড়ার সময় তাঁর পাঁজরের হার ভেঙে গেছিল।