নিউজপোল ডেস্ক: অ্যাসিড আক্রান্ত পাঁচ নারীর গল্প হার মানাবে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। জীবনের লড়াইয়ে হার না মেনে উঠে দাঁড়ানোর কাহিনী কাহিনী আসলে আগ্রার। তাজমহল থেকে এক মাইলও দূরত্ব নয়, সেখানেই পাঁচজন মিলে তৈরি করেছেন ‘সিরোজ হ্যাংআউট’ নামে এক ক্যাফে। দেশ, বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসেন এখানে। এছাড়াও অ্যাসিড আক্রান্তদের সাহায্যের জন্য তাঁরা নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এই তরুণীরা হলেন ঋতু সাইনি, চঞ্চল কুমারী, নীতু মোহর, গীতা মোহর এবং রূপা। এঁদের মধ্যে একমাত্র গীতা মোহরের বয়স বাকিদের তুলনায় একটু বেশি। তিনি নীতুর মা। এই পাঁচজন মিলেই শুরু করেছিলেন এই ক্যাফে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। ২২ বছরের রূপা বলেন, ‘প্রথমবারের জন্য খুব আনন্দ হয়েছিল, যখন একদল ভারতীয় পর্যটক আমাদের ক্যাফেতে এসেছিলেন। আমাদের এই কাজের প্রশংসা করেছিলেন তাঁরা। তারপর থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত পর্যটকরা আসতে শুরু করলেন। আমাদের লড়াই সম্পর্কে জানতে চাইতেন অধিকাংশই।’ তবে বর্তমানে সিরোজ হ্যাংআউটের এই জনপ্রিয়তা শুধু তাঁদের সুস্বাদু খাবারের জন্যই নয়। বরং স্রোতের উল্টোদিকে গিয়ে নিজেদের প্রমাণ করার তাগিদই এই ক্যাফেকে আরও লোকপ্রিয় করে তুলেছে। ২০ বছরের চঞ্চল কুমারী বলেন, ‘আমাদের এখানে আসা বেশিরভাগ পর্যটকই বিদেশি। প্রায় প্রত্যেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কে খবর পেয়ে তাঁরা আসেন এখানে।’ তবে তাঁদের কর্মকাণ্ড এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। অ্যাসিড আক্রান্তদের সাহায্যার্থে তাঁরা মানুষের থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। ২০১৩ সালে ওমেন্স ডে উপলক্ষে ‘স্টপ অ্যাসিড অ্যাটাকস’ নামে ফেসবুকে বিশেষ প্রচারকাজও চালিয়েছিলেন তাঁরা। অ্যাসিড আক্রান্তদের মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য কাউন্সেলিং করার কাজেও বিভিন্নভাবে ভূমিকা পালন করেন এই পাঁচজন।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র (এনসিআরবি) তথ্য অনুসারে, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ১,০০০ জন অ্যাসিড আক্রমণের শিকার হন। চিকিৎসকদের কথায়, অ্যাসিড আক্রান্তরা এমনিতেই মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেন। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই পাঁচজন হয়ে উঠছেন লড়াইয়ের আর এক নাম।