নিউজপোল ডেস্ক: বইয়ের প্রতি আগ্রহ রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু তার জন্যও একটা নির্দিষ্ট বয়স থাকে। কিন্তু সেই প্রথাগত নিয়ম ভাঙল সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী যশোদা ডি শেনয়। শুধু তা-ই নয়, সে বানিয়েছে আস্ত একটি লাইব্রেরিও। নাম ‘যশোদা লাইব্রেরি’। বর্তমানে তার এই লাইব্রেরিতে একশোরও বেশি সদস্য রয়েছেন। বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ পান তাঁরা।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াকালীনই বইয়ের প্রতি ছোট্ট যশোদার তীব্র নেশা। দাদার সঙ্গে নিয়মিত লাইব্রেরিতে যাওয়ার অভ্যেস ছিল তার। তখন থেকেই ‘ফ্রি লাইব্রেরি’ গড়ার কথা ভেবেছে সে। এই ছোট্ট বয়সে কীভাবে তার মাথায় এল এমন ভাবনা? যশোদা ছোটবেলায় দাদার সঙ্গে যখন পাঠাগারে যেত, প্রায় প্রতি মাসেই জরিমানা গুনতে হতো তার বাবাকে। মাসিক চাঁদা দেওয়ায় দেরি হওয়ার জন্যই এই জরিমানা। তখন থেকেই সমাজ সেবার কথা ভেবে লাইব্রেরি তৈরি করার কথা ভেবেছিল সে। চলতি বছরেরই জানুয়ারি মাসে কোচির মাত্তানচেরি এলাকার পালিয়ারাক্কাভু মন্দিরের কাছে গড়ে উঠেছিল এই বইঘর। ১০০টি বই নিয়ে শুরু হয়েছিল যাত্রা। কিন্তু বর্তমানে এই লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৩,৫০০। এত কম সময়ে এত বই জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। মাত্র এক মাসেই সে প্রায় ২,৫০০ বই সংগ্রহ করেছে। যশোদার কথায়, ‘একদিন একজন বিদেশি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে এসেছিলেন। অনেকটা সময় কাটিয়েছেন এখানে। তারপর আবারও একদিন এলেন তাঁদের সন্তানকে নিয়ে। সঙ্গে এনেছিলেন অসংখ্য বই।’ এছাড়াও যশোদার বাবা দীনেশ শেনয় সোশাল মিডিয়ায় লাইব্রেরির জন্য বই চাওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। এর ফলে আরও অনেকেই বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী যশোদাকে।
যশোদা যখন স্কুলে যায় তখন এই লাইব্রেরি সামলান তার মা, বাবা, ঠাকুমা। ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে বইপড়া পড়ার ঘোরবিরোধী সে। হাতে নিয়ে বই পড়ার আনন্দই আলাদা। ‘যখন আমি হাতে কোনও বই পাই, আমি সেটার রং, গন্ধ অনুভব করার চেষ্টা করি।’ ভবিষ্যতেও বইয়ের সঙ্গেই সে থাকতে চায়। বইপোকাদের বন্ধু হয়ে উঠুক ‘যশোদা লাইব্রেরি’, এটাই প্রত্যাশা যশোদার।