নিউজপোল ডেস্ক:‌ সাত দফা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর শুরু হয়েছে ইভিএম নিয়ে গোলমাল। দেশজুড়ে ভোটযন্ত্রের কারচুপি নিয়ে সরব বিরোধীরা। কারণ বন্ধ দোকান, গাড়ির পাদানি, ফাঁকা বুথের মতো অদ্ভুত জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে ইভিএম। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ইভিএমগুলো নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে উত্তরপ্রদেশ আর বিহারের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হল একাধিক ইভিএম যন্ত্র। প্রকাশ্যে এসেছে সেরকমই এক ভিডিও। এর পরেই বিজেপি–র দিকে আঙুল তুলেছে বিরোধীরা।
বিরোধীদের মতে, এক্সিট পোল প্রকাশ হওয়ার পরেই কারচুপি বেড়েছে। এই নিয়ে প্রথম সরব হয়েছিলেন তূণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার অভিযোগ, এক্সিট পোল আসলে মোদির গেমপ্ল্যান। আগামী দিনেও মোদি সরকার ক্ষমতায় আসছে দেখিয়ে প্রশাসনকে চাপে রাখছে মোদী-শাহরা। এর ফলে ইভিএমে কারচুপি করতে সুবিধা হবে বিজেপির। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইভিএমের ছবি এবার মমতার সেই কথাতেই সিলমোহর দিল। অবশ্য বিরোধীদের এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে যথাস্থানেই আছে ইভিএম। দেশের জনগণকে এই নিয়ে আশঙ্কিত না হতে অনুরোধ করেছে তারা।

টুইটারে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়ি থেকে অনেক ইভিএম ও ভিভিপ্যাট যন্ত্র নামিয়ে একটি দোকানে রাখছে কর্মীরা। এটি উত্তরপ্রদেশের চান্দৌলির ঘটনা। আর একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন আম আদমি পার্টির এক কর্মী। সেখানে দেখা গেছে, পাঞ্জাবে একটি প্রাইভেট গাড়ি থেকে দু’‌টি ইভিএম ও একটি ভিভিপ্যাট মেশিন বেআইনিভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে বিজেপি–র দিকে আঙুল তুলেছে আপ। কারচুপির আরও একটি ভিডিও তোলা হয়েছে ঝাঁসিতে। যেখানে প্রার্থীর অজান্তেই বুথে ইভিএম নিয়ে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ। বুথ ফেরত সমীক্ষা এই রাজ্যে মায়া–অখিলেশের মহাজোটকে এগিয়ে রেখেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সেজন্যই ইভিএমএ কারচুপি করছে বিজেপি। বসপার প্রার্থী আফজল আনসারি গাজিপুরে ইভিএম বদলে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। মঙ্গলবার ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাউডু। বিরোধীরা দাবি করছেন, প্রত্যেক কেন্দ্রে ইভিএম–এর পরিসংখ্যানের সঙ্গে ভিভিপ্যাটের স্লিপ মিলিয়ে দেখা হোক। যদিও নির্বাচন কমিশনের এই বিবৃতিতে বিরোধীরা কী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন তা জানা যায়নি।