নিউজপোল ডেস্ক: না, এটা কোনও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য নয়, ঘোরতর বাস্তব। গত শুক্রবার উত্তর প্রদেশের মেরঠে ঘটেছে এই ঘটনা। পুলিশকে রীতিমত বেকুব বানিয়ে ফেরার হল খুনের আসামী।
১৯৯৬ সালে এক উকিলকে খুনের অপরাধে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী বদন সিং ওরফে বড্ডুকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটে এই ঘটনা। বছর পঞ্চাশের বড্ডুকে কড়া পাহারায় গাজিয়াবাদের একটি আদালতে নিয়ে যাচ্ছিলেন ছ’জন পুলিশকর্মী। এই ছ’জনের মধ্যে একজন ছিলেন ইনস্পেক্টর। কিছুদূর যাওয়ার পরই মাঝপথে বড্ডু বারবার তার সঙ্গী পুলিশকর্মীদের অনুরোধ করতে থাকে, তাকে মেরঠের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই তার এই আবেদন। শেষপর্যন্ত বড্ডুর অনুরোধ মেনে মেরঠের সেই হোটেলে তাকে নিয়ে যান পুলিশকর্মীরা। সেখান থেকেই পালিয়ে যান বড্ডু।
বস্তুত, মেরঠের সেই হোটেলে বড্ডুর বন্ধুরা তখন সুরা সহযোগে পার্টি করছিলেন। বড্ডুর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকর্মীরা সেই হোটেলে পৌঁছলে তাঁদেরকেও মদ খাওয়ানো হয়। সেই মদে মেশানো ঘুমের ওষুধের প্রভাবে তাঁরা অচেতন হয়ে গেলে, হোটেল থেকে ফেরার হন বড্ডু। এই ক্ষেত্রে, বড্ডুর বুদ্ধি প্রশংসার যোগ্য হলেও প্রশ্ন উঠছে পুলিশকর্মীদের আচরণ নিয়ে। প্রথমত, কেন কোনও আসামীর অনুরোধ মেনে তাঁরা গিয়েছিলেন হোটেলটিতে? তাঁরা কেন নিজেদের কক্ষপথ থেকে সরেছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি এখনও। দ্বিতীয়ত, কর্তব্যরত অবস্থায় তাঁরা কেন মদ্যপান করেছিলেন, তাও জানা যায়নি। তাঁদের তরফে যে বিরাট ত্রুটি রয়েছে তা স্বীকার করে মেরঠ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, ছ’জন পুলিশকর্মীর প্রত্যেককেই এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, কিন্তু তাঁদের কারও এখনও জ্ঞান ফেরেনি।
ছবি: ANI