নিউজপোল ডেস্ক:‌ শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। অসম্ভব যন্ত্রণার মধ্যেও স্বস্তিতে তিনি। কারণ এই পোড়া শরীরে অন্তত কেউ ধর্ষণ করবে না। দিল্লির হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বললেন উত্তরপ্রদেশের হাপুরের সেই গণধর্ষিতা। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবা বিক্রি করে দিয়েছে। তার পর বারবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। থানায় অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে গায়ে আগুন দেন তিনি।
২০০৯ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয় নিগৃহীতার। ওই নাবালিকা বয়সে একটি সন্তানও হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে বাবা তাঁকে বিক্রি করে দেয়। যার কাছে বিক্রি করা হয়, প্রথম কয়েক দিন তার বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন নিগৃহীতা। এর পর লাগাতার তাঁকে ধর্ষণ করতে থাকে সে।
বহু লোকের কাছে ঋণ নিয়েছিল অভিযুক্ত। ঋণের তাগাদা দিতে প্রায়ই আসত পাওনাদাররা। পাওনা মেটাতে না পেরে নিগৃহীতাকে পরিচারিকার কাজের জন্য তাদের কাছে পাঠাতে থাকে। এর পর পাওনাদাররা ধর্ষণ করতে থাকে নিগৃহীতাকে। বহুবার গণধর্ষণও করে। ২০১৪ সাল থেকে অন্তত ১৪ জন তাঁকে ধর্ষণ করেছে বলে নিগৃহীতার অভিযোগ।
হাপুর থানায় বারবার অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। ২৮ এপ্রিল তাই গায়ে আগুন দেন নিগৃহীতা। এখন দিল্লির এক হাসাপাতালে ভর্তি। এ বিষয়ে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ জানিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছেন দিল্লি মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন স্বাতী মালিওয়াল। চাপে পড়ে অবশেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।