নিউজপোল ডেস্ক:‌ বিহারের মুজফ্‌ফরনগরে গত এক সপ্তাহে এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১২৬টি শিশু মারা গেছে। বলা বাহুল্য, চিকিৎসাক্ষেত্রে পরিকাঠামোর অভাবেই এনসেফেলাইটিস মহামারির আকার ধারণ করেছে। এর পরেও প্রশাসন, সরকার নির্বিকার। উল্টে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসে প্রশ্ন করেন, ‘‌ক’‌টা উইকেট পড়ল?‌’‌ এই দায়সারাভাবের কারণ একটাই, যারা মরছে, তারা শিশু। আজকের নয়, ভবিষ্যতের ভোটার।

এদেশে তাই শিশুরা ব্রাত্যই থেকে যায়। সমস্ত সুযোগ–সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। বিহারের এই ঘটনা প্রথম নয়। উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে বছর দুই আগে এনসেফেলাইটিসে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে ৭০টি শিশু মারা যায়। কারণ সেখানে যথেষ্ট অক্সিজেন সিলিন্ডারই ছিল না। এ তো গেল স্বাস্থ্য পরিষেবা। প্রশাসন কিন্তু তাদের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ। আর কী কী কারণে এদেশ শিশুদের বাসযোগ্য নয়, দেখে নেওয়া যাক—
* সদ্যোজাতর মৃত্যুহার এখনও বেশি— স্বাধীনতার পর ৭০ বছর কেটে গেছে। তবু প্রতি ১০০০ জন সজ্যোজাতর মধ্যে ৩৮ জনই জন্মে মারা যায়। বলছে ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান। এই পরিসংখ্যান কিন্তু সত্যিই চিন্তার।


* পাঁচ বছরের জন্মদিন দেখে না বহু শিশু— জন্মের পর যদি বা বেঁচে যায়, বহু শিশুই নিজের পাঁচ বছরের জন্মদিনে আর পৌঁছতে পারে না। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০০০ জন শিশুর মধ্যে ৪৮ জনই পাঁচ বছরের কম বয়সে মারা যায়। মৃত্যুর কারণ অপুষ্টি, রোগ। ২০১৫ সালে ১২ লক্ষ পাঁচ বছরের কমবয়সি শিশু মারা গেছে।
* ৭৮ লক্ষ শিশুশ্রমিক— ২০১১ সালের আদমশুমারি বলছে, দেশে ৭৮ লক্ষ শিশু পেটের ভাত জোগানোর জন্য কাজ করতে বাধ্য হয়। এদের মধ্যে অনেকে যদিও স্কুল যায়। তবে দেশে ৮ কোটি ৪০ লক্ষ শিশু কোনওদিন স্কুলই যায়নি।
* ক্ষুধার্তের সংখ্যা— কোন দেশে কত মানুষ খেতে পান না, সেই অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করা হয়। একে বলে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স। এই তালিকায় ১১৯টি দেশের নাম রয়েছে। না খেতে পাওয়া মানুষের সংখ্যা যে দেশে যত বেশি, তাদের স্থান হয়েছে তত নীচে। এই তালিকায় ভারতের অবস্থান ১০৩ নম্বরে, যা লজ্জাজনক। তালিকায় ভারতের ওপরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা (‌৬৭)‌, নেপাল (‌৭২)‌, বাংলাদেশ (‌৮৬)‌।


* অপুষ্টি— এদেশে এখনও পাঁচ বছরের কম বয়সি ৪৪ শতাংশ শিশুরই বয়সের তুলনায় ওজন কম। পাঁচ বছরের কম বয়সি ৭২ শতাংশ শিশুর অ্যানিমিয়া রয়েছে।
* স্কুলছুট— ২০১৬ সালে ইউনেস্কো একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ভারতে ৪ কোটি ৭০ লক্ষ ছেলেমেয়েই দশম শ্রেণী পাশ করার আগে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়।
* শিশু নিগ্রহ— ন্যাশনাল ক্রাইম রিসার্চ ব্যুরোর ২০১৫ সালের রেকর্ড বলছে, ওই বছর সারা দেশে ৮,৮০০ শিশু ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে।
* স্কুলে শৌচালয় নেই— সারা দেশে ২ লক্ষ ৬০ হাজার স্কুলে শৌচালয় নেই। শিশুদের শৌচকর্মের জন্য মাঠে যেতে হয়। সেই কারণে মেয়েরা একটু বড় হলে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়।
* পরিচিতরাই শিশু নিগ্রহকারী— ২০১৫ সালে ৩,১৪৭ টি শিশুই প্রতিবেশীর দ্বারা নিগৃহীত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিচিতরাই ধর্ষণ করেছে শিশুদের।