নিউজপোল ডেস্ক: মানব সভ্যতার আগ্রাসনে পরিবর্তন হচ্ছে পৃথিবীর চেহারায়। পাহাড় হয়ে যাচ্ছে সমতল, বনাঞ্চল হয়ে যাচ্ছে কৃষিজমি। এতে সমস্যায় পড়ছে বন্যপ্রাণীরা। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে না পারলে অবলুপ্তি নিশ্চিত তাদের, এবং তাই-ই হচ্ছে। কিছু প্রাণী তবু লড়ে যাচ্ছে, যেমন এশীয় হাতি। বিখ্যাত প্রকৃতি বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ বলছে কর্নাটকের এশীয় হাতিদের মধ্যে সম্প্রতি এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে।

মানুষের মতোই পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতে পছন্দ করে হাতিরা। এক একটি পালে বাবা, মা, কাকা, কাকি, মামা, মামি, ভাই, বোন, বিভিন্ন রকম সম্পর্কের হাতিরা দলবদ্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু পুরুষ হাতি একবার ‘সাবালক’ হয়ে গেলে তারা একা থাকে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন পুরুষ হাতিরাও দল গঠন করছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে বয়স্ক এবং অভিজ্ঞ হাতিদের থেকে শিক্ষা নিতেই এই ব্যবস্থা বলে জানা গেছে। জঙ্গল কেটে সাফ হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই লোকালয়ে শস্য খেতে চলে আসে হাতির পাল। সেখানে মানুষের আক্রমণ, বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে মৃত্যু, ইত্যাদির বিপদ থেকে বাঁচতে অভিজ্ঞ হাতিদের পরামর্শ নিতেই এই পুরুষ হাতিদের দল গঠন।

বন্যপ্রাণ জীববিজ্ঞানী নিশান্ত শ্রীনিবাসাইয়া এবং তাঁর দল কর্নাটকের বানেরঘাট ন্যাশনাল পার্কের ১০ হাজার বর্গকিমি জায়গা জুড়ে প্রায় দু’ বছর ধরে এক গবেষণা চালান। বিভিন্ন জায়গায় ক্যামেরা বসিয়ে হাতিদের মোড় ২০,১২৪টি ছবি তোলেন তাঁরা। ছবিগুলো থেকে তাঁরা স্থির সিদ্ধান্তে আসেন যে, বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় হাতিদের স্বভাব চরিত্রে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল পুরুষ হাতিদের দল গঠন।