নিউজপোল ডেস্ক: আইন বা পরিসংখ্যান সেরকম কিছু না বললেও, সামাজিক পরিকাঠামো অনুসারে সেটাই প্রচলিত নিয়ম। ‘কাজ করতে আমি খুব ভালবাসতাম, কিন্তু বিয়ের পর মনে হয় চাকরি করাটাই যেন অপরাধ!’ বা ‘প্রমোশনটা ছেড়ে দিতে হল, ফিরতে দেরি হলে বাড়িতে খুব সমস্যা হয়’— এই জাতীয় কথাগুলো আমাদের প্রত্যেকের খুব চেনা।

আইন বলছে, নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে লড়াইটা করতে পারলে পাশে রয়েছে ভারতীয় সংবিধান। ২০১৩’র কোম্পানি আইন অনুসারে মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে পরিচালকের পদে আসীন করার প্রস্তাবের পাশাপাশি রয়েছে কর্মক্ষেত্রে কোনও কদর্যতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা। এরপরেও কাউকে জোর করে চাকরি করতে না দিলে নিম্নোক্ত ধারাগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করা সম্ভব।

  • ১৯৭৬-এর বিবাহ আইন অনুসারে ‘নিষ্ঠুরতা’র অর্থ এরকম যে কোনও আচরণ যা শারীরিক বা মানসিক যন্ত্রণাদায়ক, যে কারণে সঙ্গীর সঙ্গে থাকাটা সম্ভব হচ্ছে না। নিজের পেশা সম্পর্কে উৎসাহী কোনও মহিলা এই ধারার সাহায্য নিতে পারেন।
  • কাজ করার স্বাধীনতার অধিকারের বিরোধিতা।
  • মহিলাদের জাতীয় কমিশন আইন (১৯৯০)-এর আওতায় পড়ে মহিলাদের জীবনধারণের উন্নয়ন আর্থিক ক্ষমতায়ন।

বাক্যবাণ শানিয়ে অপরাধবোধ সৃষ্টি করাটা বেশ সহজ, বিশেষত যখন ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে ‘সংসার ধরা রাখা মেয়েদের কাজ’। কাজেই ‘আমাদের ছেলে ভালই রোজগার করে, তোমার বাইরে গিয়ে কাজ করার দরকার নেই’ বা ‘সংসার সামলে চাকরি করতেই পারো’ জাতীয় কথাগুলো আদতে কাজ থেকে বিরত করারই প্রচেষ্টা।

কেউ কেউ অবশ্য বিয়ের পর মেয়েদের চাকরি করার ‘অনুমতি’ দেন। প্রশ্ন হচ্ছে, স্বাধীন দেশের কোনও স্বাধীন নাগরিককে নিজের পেশায় অগ্রসর হতে গেলে কারও ‘অনুমতি’ লাগবে কেন? অনুমতি সাপেক্ষেও বাস্তব পরিস্থিতি হচ্ছে, ‘অফিস থেকে ফিরে রাতের রান্নাটা করতে সাহায্য তো করতেই পারো’ বা ‘সকালে বেরোবার আগে ব্রেকফাস্টটাও কি বানানো যায় না?’ হয়তো যায়, কিন্তু তাতে চাপ পড়ে মেয়েটির শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। সেই চাপ সামলাতে না পেরে এবং অশান্তি আটকাতে অনেকেই ছেড়ে দেন চাকরি। তাতে করে আদতে দেশের অর্থনীতির ওপরেও প্রভাব পড়েই। শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে মেয়েদের। লক্ষ্মণরেখা এখন খুব একটা মূল্য রাখে না।