নিউজপোল ডেস্ক: রাস্তার কুকুর-বেড়ালদের প্রতি দুর্ব্যবহার এবং অত্যাচার করাটাকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেশ স্বাভাবিক বলেই গণ্য করা হয়। বেড়ালদের ক্ষেত্রে অভিযোগ আরও গুরুতর, তারা ‘পোষ মানে না’ এবং ‘লোকের বাড়ি চুরি করে’ ইত্যাদি। সুতরাং কুকুরছানাকে পিটিয়ে খুন বা চোখ না ফুটতেই বেড়ালছানা বিলিয়ে দেওয়াটা সাধারণ ঘটনা। বিশেষত পাড়ায় অঞ্চলে বেড়ালের সংখ্যা বেড়ে গেলে, আপদ বিদেয় করার জন্য পুরসভাকে ডাকা হয় প্রায়শই। কিন্তু এই পৃথিবীতেই থাকেন মানালি পারকার এবং ‘মঞ্জরপ্রেমী’ সংস্থার মানুষেরা, যাঁরা চেষ্টা করেন মার্জারকুলকেও একটা স্বাভাবিক জীবন দেওয়ার।
মহারাষ্ট্রের থানে জেলার কাচরালি অঞ্চলটি সাধারণত মানুষের হাঁটার জায়গা। আঞ্চলিক বাসিন্দা মানালিও এখানে হাঁটতে আসেন নিয়মিত। ছেলেবেলা থেকেই বেড়ালভক্ত মানালিকে তাঁর দাদা গত সাত বছর আগে একটি বেড়ালছানা উদ্ধার করে এনে উপহার দেন। সেটিকে বড় করে তুলতেই তুলতেই মানালি বুঝতে পারেন, মার্জারকুলের প্রতি তাঁর যেটা রয়েছে, সেটা ভাললাগা নয়, ভালবাসা। সম্প্রতি একদিন কাচরালিতে হাঁটতে গিয়ে মানালি লক্ষ করেন, হঠাৎ করেই যেন সেখানে বেড়ে গেছে বেড়ালের সংখ্যা।
শুধু বড় বেড়ালই নয়, বৃদ্ধি পেয়েছে বেড়ালছানার সংখ্যাও। নির্ঘাত কেউ কেউ এসে বাচ্চা বেড়ালদের ফেলে গেছে এখানে, বুঝতে পারেন তিনি। কিন্তু সবকটি বেড়ালকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বর্তমানে তাঁর দু’টি বেড়াল রয়েছে। কিন্তু বেড়ালদের এই দুর্দশা দেখে কষ্ট হয় তাঁর। নিজের পুরনো জিনসের মধ্যে কাপড় ভরে সেটিকে বেড়ালদের উপযুক্ত বিছানা বানিয়ে নিয়ে আসেন তিনি। পরে দেখেন সেই বিছানায় দু’টি-তিনটি নয়, ১২-১৩টি বেড়াল এসে আস্তানা গেড়েছে।
মানালি নিজে ‘মঞ্জরপ্রেমী’ নামক এক মার্জারপ্রেমী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তিনি এই অভিজ্ঞতার কথা সেখানে প্রকাশ করেন। এরপরই থানের আরেক বেড়ালপ্রেমী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, যে এই বেড়ালদের সঠিক টীকাকরণের প্রয়োজন। বয়স্ক বেড়ালদের মধ্যে বেশ কয়েকটি অসুস্থও রয়েছে, তাদের চিকিৎসারও প্রয়োজন। এরপর থেকেই সংস্থার অন্যান্য সদস্যদের থেকে সদর্থক সাড়া পান তাঁরা। আঞ্চলিকদের সাহায্যের পাশাপাশি, মুম্বই, পুনে এবং বেঙ্গালুরুতে থাকা সদস্যরা নিয়মিত অনুদান পাঠাতে শুরু করেন।
মঞ্জরপ্রেমীর পুনে নিবাসী দুই সদস্য নওয়াজ এবং প্রিয়াঙ্কা একটি বেড়াল উদ্ধারকারী ওয়েবসাইট চালান। তাঁরা নিজেদের এই সাইটে কাচরালিতে পাওয়া প্রত্যেকটি বেড়ালের ছবি দিয়ে এদের দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মানালি জানালেন, এখনও পর্যন্ত ২৩টি বেড়ালছানা দত্তক নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।
পাশাপাশি পাঁচ-ছ’টি বেড়ালকে অসুস্থতার রক্ষা করেছেন এবং ১২টি বেড়ালের নির্বীজকরণ করিয়েছেন। তবে দত্তকের আগে প্রত্যেকটি বেড়াল যাতে রোগমুক্ত এবং টীকাপ্রাপ্ত হয়, সেদিকেও সতর্ক নজর রেখেছেন তাঁরা। আঞ্চলিক প্রশাসনুও খুবই খুশি মানালি এবং মঞ্জরপ্রেমী’র এই উদ্যোগে। বেড়াল সংক্রান্ত নানা অভিযোগের সম্মুখীন হচ্ছিলেন তাঁরা এর আগে, কিন্তু কী করবেন সেটা বুঝতে পারছিলেন না।
শেষ প্রকাশিত খবর অনুসারে, নিজের দু’টি বেড়ালের সঙ্গে এখান থেকেও একটি বেড়ালকে দত্তক নিয়েছেন স্বয়ং মানালি।