নিউজপোল ডেস্ক: ২০১৯ নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ডই বাস্তব রূপ পেল ২৩ মে। দেশজুড়ে মোদীঝড়ে সমস্ত বিরোধীদের প্রায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। লোকসভায় বিরোধীদের অবস্থা একেবারে কোণঠাসা। দীর্ঘদীন ধরে আমেঠী থেকে জেতা আসনও খোয়ালেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের যে সমস্ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরা নির্বাচনে লড়লেন, তাঁদের অধিকাংশই হেভিওয়েট প্রার্থী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। একঝলক দেখে নেওয়া যাক কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের তালিকা।

দিগ্বিজয় সিং: টানা দশ বছর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলেছেনে দিগ্বিজয় সিং। ভোপাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান প্রার্থী ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর। শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদের স্লোগান তুলেই হারিয়ে দেয় কংগ্রেসের এই প্রার্থীকে। এছাড়াও বিজেপি-র তরফে অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশের প্রশাসনিক কাজের অবনতিকে কেন্দ্র করে। প্রশ্নবাণেই বিদ্ধ দিগ্বিজয় হেরে যান সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের কাছে। দীর্ঘ দশ বছরের মুখ্যমন্ত্রী সাধ্বীর কাছে ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৫২৯ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।

শীলা দীক্ষিত: শীলা দীক্ষিত কংগ্রেসের প্রথম সারির নেত্রী। তবে পরপর তিনবার নির্বাচনে হেরে এখন যথেষ্ট বিপাকে তিনি। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনই হয়তো শীলার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে পারে। ভারতীয় জনতা পার্টির দিল্লি প্রদেশাধ্যক্ষ মনোজ তেওয়ারির কাছে ৩,৬৩,৯৬৯ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান শীলা দীক্ষিত।

ভূপেন্দ্র সিং হুডা: চারবারের সাংসদ এবং দশ বছর হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীর পদ সামলে রাখা ভূপেন্দ্র সিং হুডাও পরাজিত। সোনিপত তাঁর নিজের এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেসকে মাইলেজ দিতেই সোনিপত থেকে লোকসভার পদপ্রার্থী হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের আসনও খোয়াতে হল। রমেশচন্দ্র কৌশিকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ভূপেন্দ্র সিং ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৭৫৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। হরিশ রাওয়াত: উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা হরিশ রাওয়াত দল এবং নিজের ক্ষুরধার ভাবমূর্তিও ধরে রাখতে পারলেন না। উধম সিং নগরের নৈনিতাল কেন্দ্র থেকে হরিশ রাওয়াত অজয় ভট্টের বিরুদ্ধে প্রার্থী হন। কংগ্রেসের এই নেতা অজয় ভট্টের বিরুদ্ধে ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

অশোক চৌহান: মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চৌহান। বর্তমানে তিনি প্রদেশ কংগ্রেসের কমিটি অধ্যক্ষ। ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতাপরাও পাটিল ৪২ হাজার ৮২৬ ভোটের ব্যবধানে অশোক চৌহানকে পরাজিত করেন।

সুশীলকুমার শিন্ডে: একসময় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতৃত্বের অন্যতম থাকা সুশীলকুমার এখনও কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। ইউপিএ-২ আমলে সুশীলকুমার দু’বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরও সামলেছেন। গেরুয়া ঝড়ের দাপটে হেরে গেলেন তিনিও। মহারাষ্ট্রের কিছুদিনের জন্যে মুখ্যমন্ত্রিত্বের পদও সামলান সুশীলকুমার। তাঁর হারের ব্যবধান ১,৫৪,৮৮৭ ভোট।

বিরাপ্পা মোইলি: ইউপিএ-২ আমলে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী থাকা বিরাপ্পা মইলির রাজনৈতিক চিত্র বদলাতে থাকে। বেশ ভাল কিছু মন্ত্রকের পদ সামলান তিনি। ২০১৪ সালে মইলি চিকবালাপ্পুর কেন্দ্র থেকে ৯৫২০ ভোটে জেতেন। কিন্তু ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিরাপ্পা মইলি ১ লক্ষ ৮২ হাজার ১১০ ভোটে পরাজিত হন।

নাবাম তুকি: যে অরুণাচলপ্রদেশজুড়ে এক সময় নাবাম তুকি রাজত্ব করেছেন, সেখান থেকেই ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে তাঁর পরাজয় হল। অরুণাচলের দুটি লোকসভা কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজত্ব কায়েম হল। নাবাম তুকির বিরুদ্ধে দাঁড়ান কিরেন রিজিজু। মোট ১ লক্ষ ১২ হাজার ৬৫৮ ভোটে কিরেন রিজিজু কংগ্রেস প্রার্থী নাবাম তুকিকে পরাজিত করেন।

মুকুল সাংমা: মেঘালয়ে ক্ষমতায় থাকা মুকুল সাংমা অবশেষে পরাজিত হলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পদপ্রার্থী হন আগাথা সাংমা। আগাথাকে ইউপিএ-২ জমানায় গ্রামীণ বিকাশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী করা হয়। পরবর্তীকালে দল বদলে ন্যাশনাল পিপল্‌স পার্টিতে যোগদান করেন আগাথা সাংমা। আগাথা সাংমার কাছে মুকুল সাংমা ৬৩ হাজার ৭৭২ ভোটে পরাজিত হন।

মোদীর দাপুটে ইনিংসে দেশজুড়ে গেরুয়া ঝড় বইছে। বিরোধী শিবিরে একের পর এক ইন্দ্রপতন যে ভারতীয় জনতা পার্টির আত্মবিশ্বাস আরও জোরদার করব তা বলার অপেক্ষা রাখে না।