নিউজপোল ডেস্ক: যথেচ্ছ পরিমাণে গাছ কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্যই নষ্ট হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই দূষণ ও অস্বাভাবিক জলবায়ু পরিবর্তনের খেসারত দিচ্ছি আমরা। এই পরিস্থিতিতে রাজস্থান সরকারের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আপামর দেশবাসী। রাজ্য সরকার পরিচালিত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পড়ুয়াদের প্রতি বছর কলেজ চত্বরেই লাগাতে হবে অন্তত একটি করে গাছ। এমনকী, স্নাতক ডিগ্রি পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের পুকুর খোঁড়ার কাজেও হাত লাগাতে হবে।

আরও পড়ুন: নতুন নিয়ম! স্নাতক হতে গেলে ১০টি গাছ লাগাতেই হবে

রাজস্থান সরকারের এই নয়া উদ্যোগের মধ্যে জল সংরক্ষণ যেমন রয়েছে, তেমনি কলেজ চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জাতির জনক গান্ধীজির দর্শন মেনে চলারও নির্দেশ দিয়েছে তারা। নতুন শিক্ষার্থী, যাঁরা সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে ভর্তি হবেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকরী করতে চলেছে শিক্ষা দফতর। ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশের প্রতি যত্নশীল করার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ। চালু হতে চলেছে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই। শুধু গাছ লাগানোই এই প্রকল্পের শেষ কথা নয়, নিয়মিত দেখভাল করার দায়িত্বও যে পড়ুয়াদেরই, সে কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন রাজ্য সরকার। কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী ড: সুভাষ গর্গ জানিয়েছেন, ‘এই শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজস্থানের সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রত্যেক নতুন শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ লাগাবে। যতদিন না তারা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে, ততদিন পর্যন্ত সেই গাছের যত্ন নেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই।’ তবে পড়ুয়াদের এই মহান ব্রতে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পাশে থাকতে হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রক। বিশেষত জল সংরক্ষণের জন্য পুকুর খনন করা, বৃষ্টির জল সঞ্চয় করা ছাড়াও ভূ-গর্ভস্থ জলের ঘাটতি মেটানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের ‘শ্রম দান’ করার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। পরিবেশের উন্নতিকল্পে আরও কোনও উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হলে, সেই বিষয়ে মতামত জানাতে পারেন কলেজগুলির অধ্যক্ষরাও।

আরও পড়ুন: ফণীর ক্ষতি সামাল দিতে ১০ কোটি গাছ লাগানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

এর আগে স্নাতক হওয়ার শর্তে এমনই উদ্যোগ নিয়েছিল ফিলিপিন্স সরকার। প্রত্যেক কলেজ পড়ুয়াকে কমপক্ষে ১০টি গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের সরকার। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৭ কোটি নতুন গাছ রোপণ করতে সক্ষম হবে ফিলিপিন্সের স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী পড়ুয়ারা। এবার আমাদের দেশেও এমন নিয়ম চালু হওয়ায় পরিবেশের অনেকটাই ক্ষতি পূরণ করা যাবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তবে শুধু রাজস্থান নয়, সব রাজ্যেই যাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেই আর্জি জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বেসরকারি কলেজগুলিও এই কর্মকাণ্ডে সামিল হবে বলে আশাবাদী তাঁরা।