নিউজপোল ডেস্ক: ২০১২ গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন, ২০১৫ লোকসভা নির্বাচন, ২০১৫ বিহার বিধানসভা নির্বাচন এবং এ বারের অন্ধ্রপ্রদেশে লোকসভা নির্বাচন- এই চারটের মধ্যে মিল কোথায়? আপাতদৃষ্টিতে মিল পাবেন না, কারণ এক একটায় এক এক দল বা জোট জয়লাভ করেছে। কিন্তু এই সবের পেছনেই ছিল একজনের মস্তিষ্ক, প্রশান্ত কিশোর। এই মহূর্তে তাঁকে নির্বাচনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হচ্ছে। লোকসভা নির্বাচনে অন্ধ্রপ্রদেশে চন্দ্রবাবু নাইডুর দলকে ধরাশায়ী করে দিয়েছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস, তার পেছনেও প্রশান্ত কিশোরের মাথা। ২৫টি লোকসভা আসনের মধ্যে ২২টিতেই জয়ী হয়েছে জগন মোহনের ওয়াইএসআর। এবং একইসঙ্গে ১৭৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৫০টি দখল করেছে তারা। ফলে বহু প্রতীক্ষিত মুখ্যমন্ত্রীর পদ পেলেন জগন মোহন।

২০১৪-র গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে মোদীর সহায় হয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর।

২০১৪’র বিধানসভা নির্বাচনে হতাশাজনক ফল করেছিল জগনের ওয়াইএসআর। ৪৫.৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা। ওদিকে চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিকে পেয়েছিল ৪৮.২ শতাংশ ভোট। আসনের সমীকরণ ছিল ৬৬-১০৩। স্পষ্টতই বেশ কিছু সাংগঠনিক সমস্যা দেখা গেছিল সেবার। সেই সমস্যা মেটাতে আবির্ভূত হলেন প্রশান্ত কিশোর। এর আগে মোদী, নীতীশ-লালুর জোটকে সাফল্য এনে দেওয়া প্রশান্ত প্রথমেই বুথ-পর্যায় থেকে সাংগঠনিক জোর বাড়ানোর কাজ শুরু করলেন। আকর্ষক স্লোগান, থিম সং তৈরি করালেন। প্রায় ১৫ মাস ধরে ‘প্রজা সংকল্প পদযাত্রা’র আয়োজন করা হল। এই পদযাত্রায় চলত ‘মাভালি জগন, কাভালি জগন’ নামে একটি গান। তার অর্থ, ‘আমরা জগনকে চাই, জগনের জেতা উচিত’। এটি এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হওয়া প্রচার-গান। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এ গানের ভিডিও দেখেছেন।

বিহারে নীতীশের ক্ষমতায় আসার পেছনেও সেই প্রশান্তের মস্তিষ্ক।

উলটোদিকে চন্দ্রবাবু নাইডুকে টিপ্পনী কেটে চলে ‘নিন্নু নাম্মান বাবু’ অর্থাৎ, আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি না চন্দ্রবাবু। চন্দ্রবাবু নাইডুর দলের তরফে এরকম স্লোগান তৈরি করা হলেও তা কাজে দেয়নি। ক্ষমতায় এসেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস যার জন্য বিরাট কৃতিত্ব পাচ্ছেন প্রশান্ত কুমার। তাঁর ঝকঝকে রাজনৈতিক কেরিয়ারে একমাত্র কালো দাগ সম্ভবত উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। দীর্ঘ তিন দশক ক্ষমতার অলিন্দ্বে না থাকা কংগ্রেস প্রশান্তের দ্বারস্থ হয়েছিল। সপা, বসপার সঙ্গে মহাজোট বানিয়ে কাজও শুরু করেছিলেন। পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য দলের মুখ হিসেবে তুলে ধরতে। কিন্তু কংগ্রেস হাইকম্যান্ড তাতে রুষ্ট হয়, এবং তাঁকে জানিয়ে দেয়, গান্ধী পরিবারের বিষয়ে নাক গলানো তাঁর কাজ নয়। যেটুকু দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে সেটুকুই পালন করুক প্রশান্ত, জানিয়ে দিয়েছিল হাইকম্যান্ড। এরপরেই কোনও কারণে, বিজেপির সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে মহাজোট। তবে এই একবারই ব্যর্থতা, বাকি চারবারেই নির্বাচনী মাস্টারমাইন্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।