নিউজপোল ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই দেশ জুড়ে চলছে ‘বেটি পড়াও বেটি বাঁচাও’ অভিযান। তাতে করে অবশ্য দেশে ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মাত্রা কিছু কমেনি। মেয়েদেরকে এখনও পণ্য হিসেবেই ধরা হয় বিয়ের বাজারে ‘দহেজ’ বা পণ আদায় করার ক্ষেত্রে। কন্যাভ্রূণ হত্যাও দিব্যি চলছে।
লখনউতে যোগী আদিত্যানাথের কার্যালয় থেকে ঘণ্টাখানেকের দূরত্বে বিলহর তহশীলের যোগীদেরা গ্রামে বসবাস করে এক সাপুড়ে সম্প্রদায়। ১৫ শতকে গোরক্ষনাথের শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই এঁরা কন্যা সন্তানকে দেখেন দেবী পার্বতীর অংশ হিসেবে। দেবীশক্তির থেকেই তাঁরা বিষধর সাপকে কাবু করার, সাপের বিষ বার করার এবং সাপের বিষে অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার সাহস এবং ক্ষমতা পান। নারী অবমাননা এদের সমাজে অমার্জনীয় অপরাধ।
স্বাধীন ভারত কিছুই দেয়নি এঁদের। ১৯৭২ সালের বনসম্পদ সুরক্ষা আইনের প্রভাবে খারিজ হয়ে গেছে তাঁদের চিরন্তন রুটিরুজি। ব্রিটিশ ভারতের রাজা মহারাজারা তবু তাঁদের দেশে বিদেশে পাঠাতেন সাপ এবং দড়ির খেলা দেখাতে। ১৯৪৭ উত্তর ভারতে তাঁরা নিপীড়িত এবং প্রান্তিক এক সম্প্রদায়, যারা অবলুপ্তির সম্মুখীন প্রায়। বন দফতরের আধিকারিকরা তাঁদের উপার্জনের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা শুরু করলে, এঁরা রোজগারের আশায় নাগিন ব্যান্ড পত্তন করেন। শুরুতেই সম্প্রদায় প্রধানেরা জানিয়ে দেন, এই ব্যান্ডে নৃত্যশিল্পী হিসেবে থাকবে না কোনও মেয়ে, জানালেন শমসের নাথ। ‘সঞ্জু সাপেরা ব্যান্ড’-এর পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি তিনি সম্প্রদায়ের মোড়লও। তাঁর সঙ্গী কমলেশ নাথা জানান, ঐতিহ্যই তাঁদের ধর্ম। পূর্বপুরুষেরা কন্যাসন্তান বিহীন কোনও পরিবারে বিয়ে করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গেছেন। আজও সেটা মান্য করা হয়। পরিবারে মেয়ে না জন্মানোকে ‘পূর্বজন্মের পাপের ফল’ বলে মানেন এঁরা।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথই এঁদের ‘মোহন্ত’। কিন্তু মহকুমাশাসক হিমাংশু গুপ্তের এঁদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও বক্তব্য নেই। তিনি এঁদের অস্তিত্বের কথাই নাকি জানতেন না। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি সংবাদমাধ্যমকে ব্লক অফিসে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সেখানকার আধিকারিকরা অবশ্যই নির্বাচনের কাজে ‘ব্যস্ত’ থাকায় কথা বলতে পারেননি। একমাত্র অতিরিক্ত জেলাশাসক বীরেন্দ্র পাণ্ডে এঁদের সমস্যার কথা শুনে অঞ্চল পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অবস্থার যে কোনও উন্নতি হবে না, মেনে নিয়েছেন এই সম্প্রদায়ের মানুষ। নিজেদের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট না হলেও কোনও আক্ষেপ নেই। যদিও গ্রামের মহিলারা চান তাঁদেরও এলপিজি গ্যাস দেওয়া হোক। চুলায় রান্না করার হাত থেকে নিষ্কৃতি ছাড়া কোনও দাবি নেই এঁদের। কিন্তু ভবিষ্যৎ কী? ‘সভ্যতার’ সঙ্গে লড়ে কতদিন টিকবেন এঁরা?