নিউজপোল ডেস্ক: ১৯৪৬ সালে যখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন চায়ের দোকান করবেন, পরিবার বা সমাজ কেউই মেনে নেয়নি সেটা। জমিদার রাজপুত বংশের ছেলে হয়ে চায়ের দোকান দেওয়াটাকে ভাল চোখে নেয়নি জয়পুরের কুলীন রাজপুত সমাজ। একঘরে করে বেশ খানিকটা দূরত্বই বজায় রাখা হত তাঁর থেকে। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তের থেকে একচুল সরেননি গুলাব সিংজি ধিরাওয়াত। এখন সবাই বুঝেছে, সবাই এখন তাঁরই উত্তরাধিকার বহন করতে চায়— গর্বিত ভাবে জানালেন ৯৪ বছরের এই বৃদ্ধ চা-ওয়ালা।

রোজ ২৫০ ভিক্ষুককে খাওয়ান তিনি। প্রতিদিন ভোর তিনটেয় উঠে তিনি দোকানে আসেন। অপেক্ষারত ক্রেতাদের ভিড় ঠেলে ভেতরে গিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেন সকালের চায়ের। ঠিক ভোর সাড়ে চারটেয় খুলে যায় দোকানের ঝাঁপ। কড়া মশলা চায়ের সঙ্গে এখন মেলে ‘সামোসা’ এবং ‘বান মাস্কা’। চা প্রেমীদের মতে, গুলাবজির চায়ের এক চুমুকেই খুঁজে পাওয়া যায় প্রাচীন এই ঐতিহাসিক শহরের ঐতিহ্য। গণপতি প্লাজার একটি সরু গলি, মির্জা ইসমাইল রোড। সেখানেই অবস্থিত এই চায়ের দোকান। কী বিশেষত্ব এই চায়ের? গুলাবজি জানালেন, বানানোর উপকরণ আর পাঁচটা সাধারণ মশলা চায়ের মতোই— চা পাতা, দুধ, জল, চিনি এবং মশলা। কিন্তু তাঁর চায়ে ভরা থাকে অনেকখানি ভালবাসা। সেটাই বোধহয় বৈশিষ্ট্য এই চায়ের।

১৩০ টাকা দিয়ে শুরু করা এই দোকানের এখন দিনপ্রতি রোজগার ২০,০০০ টাকা। প্রতিদিন প্রায় ৪,৫০০ মানুষ আসেন এখানে চা জলখাবার খেতে। এই বয়সেও কাজের ভয় করেন না গুলাবজি। পাশাপাশি সমাজের কাছ থেকে যে ভালবাসা শ্রদ্ধা পেয়েছেন, সেটা ফিরিয়েও দেন। প্রতিদিন সকাল ছ’টা এবং দুপুর ১২টা নাগাদ ২৫০ জনের বেশি ভিক্ষুক এসে জড়ো হন এই দোকানের সামনে। গুলাবজি দু’বেলা এঁদের বিনামূল্যে খাওয়ান। কখনও চা-সামোসা, কখনও চায়ের সঙ্গে চার টুকরো মাখন পাউরুটি। দিনের শেষে মানুষ ভালবাসা এবং আশীর্বাদ ছাড়া কিছুই নিয়ে যায় না বলে বিশ্বাস গুলাবজির। নিজের আনন্দ তাই তিনি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন।