নিউজপোল ডেস্ক: গত বছর অগস্ট মাসে মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে পাত্র এবং তার পরিবারকে স্বঘোষিত এক গুরু আদেশ দেন, নতুন বউকে অভুক্ত রেখে তাঁকে দিয়ে পুজোআচ্চা এবং বৈদিক উপাচার করাতে। তাহলেই গুপ্তধনের সন্ধান পাবে পাত্রের পরিবার। সেইমতো, বিয়ের পর ৫০ দিন ধরে প্রায় খেতে না দিয়ে উপাচার পালন করানো হয় বউকে দিয়ে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কচ্ছপের ওপর কিছু উপাচার পালন করানো হত।

চন্দ্রপুর জেলার চিমুর তহশিলের শেগাও গ্রামের এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে মহিলার স্বামী, শ্বশুরবাড়ির লোকজন এবং ওই গুরুকে। শেগাও থানার এক পুলিশ কর্মী জানান, মহিলাকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে অত্যাচার করা হতো। ভোর পৌনে তিনটে থেকে তাঁকে দিয়ে করানো হত পুজো। পুজোর সময় কোনও নিয়মে ভুল হলে শ্বশুর–শাশুড়ি তাকে মারধর করত। মোবাইল কেড়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করা হয়েছিল বাপের বাড়ির সঙ্গে। কিন্তু মেয়ের কোনও খবর না পেয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তার বাবা। মেয়ের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটছে এই সন্দেহে তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে এসে দেখেন, মেয়ে মৃতপ্রায়। তৎক্ষণাৎ তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন তার বাবা। সেখানেই নিজের সঙ্গে হওয়া অত্যাচারের কাহিনি বর্ণনা করেন নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এই মহিলা।

ঘটনার কথা প্রকাশিত হলে মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতি ব্যাপারটি পুলিশকে জানায়। তারপরেই অভিযুক্ত সকলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শেগাও থানার সহকারী পুলিশ আধিকারিক এসপি বরকুটে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ৯ জুলাই এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মহিলার স্বামী এবং সেই গুরুর বিরুদ্ধে মামলা আনা হয়েছে ৪৯৮ (এ) ধারায়। পাশাপাশি রয়েছে মহারাষ্ট্রে নরবলি এবং অন্যান্য অমানবিক, অশুভ, অঘোরী উপাচার এবং কালো জাদু বিরোধী আইন (২০১৩)-র বিভিন্ন ধারা। বরকুটে আরও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ১১ জুন অভিযুক্তদের স্থানীয় আদালতে পেশ করা হবে।