নিউজপোল ডেস্ক:‌ তাঁর বিরুদ্ধে গত আড়াই বছর ধরে রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে। তাই দেশ ছাড়া। কোনও রাজনৈতিক দলেরই তিনি ঘনিষ্ঠ নন। জনপ্রিয় বলে ভারত সহ দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে মাঝেমধ্যেই রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট জনদের সঙ্গে দেখা করেন। জানিয়ে দিলেন ইসলাম ধর্ম প্রচারক জাকির নাইক। সেই সঙ্গে উড়িয়ে দিলেন বিজেপি সরকারের সব অভিযোগ।
ঢাকার ক্যাফেতে হামলাকারীরা তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। কেরল থেকে ধৃত আইএস সমর্থকরাও তাঁর বক্তৃতা শুনতেন। এসব তথ্য সামনে আসার পর জাকির নাইকের চ্যানেল পিস টিভি নিষিদ্ধ হয় ভারত এবং বাংলাদেশে। জাকির নাইকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার পর থেকেই দেশ ছাড়া জাকির। কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার দিকেও আঙুল তোলেন মোদী। এই নিয়েই এবার মুখ খুললেন জাকির। বললেন, কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠতা নেই। একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল মাত্র।
তাহলে হায়দরাবাদে আইপিএস অফিসারদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কেন বক্তব্য রাখতে বলা হয়েছিল তাঁকে?‌ জবাবে বলেন, আইপিএস অফিসারদের সন্ত্রাস মোকাবিলা নিয়ে বোঝাচ্ছিলেন। এর জন্য দেশের তৎকালীন কংগ্রেস সরকারকে দুষে লাভ নেই। এই ধরনের বক্তব্য তিনি সৌদি আরব, ইউকে, বাহরিনেও রাখেন। কংগ্রেস একা তাঁকে ‘‌শান্তির দূত’‌ আখ্যা দিয়েছে। সৌদির রাজা সলমন, দুবাইয়ের শাসক শেখ মহম্মদ বিন রশিদও একই কথা বলেন। তাহলে তাঁদেরও দোষ দিতে হবে মোদীকে।
জাকিরের মতে, তাঁর জনপ্রিয়তার জন্যই বিজেপি সরকার নিশানা করেছে। ঠিক যেমন পাশ্চাত্যের দেশগুলো করেছে। তিনি ইসলামের শান্তির বাণী ছড়াতে চান। প্রমাণ করতে চান, ইসলামও মহান ধর্ম। এই প্রচার আটকাতেই পশ্চিমের দেশগুলো ভয়ে তাঁর পিস টিভি চ্যানেল বন্ধ করেছে। একই কাজ করেছেন মোদীও। পাশাপাশি এও স্বীকার করেছেন, কোনও রাজনৈতিক দলকে চাঁদা না দেওয়ার জন্যই নিশানা করা হয়েছে তাঁকে। তিনি কখনওই কংগ্রেস পার্টিকে চাঁদা দেননি। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে দিয়েছেন। তবে বিজেপি–র নিয়ন্ত্রণাধীন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও কিছু কম টাকা দেননি। কিন্তু বিজেপি সেগুলো মনে রাখেনি, আক্ষেপ জাকিরের।