কোমলিমা চৌধুরী: রবীন্দ্রসঙ্গীত বাঙালির চিরকালীন নস্টালজিয়া। তাকে ভেঙেচুরে কিংবা অক্ষত রেখে তৈরি করা হয়েছে প্রচুর রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম। এবার ধরুন তার সাথে মিশলো কবির লেখা কিছু চিঠি! ১৫ মে পার্ক স্ট্রীট আই.সি.সি.আর-এ মুক্তি পেল নতুন আঙ্গিকের রবীন্দ্রসঙ্গীতে সমৃদ্ধ অ্যালবাম ‘এন্ডেভরিং টেগোর’। কবির ১৫৯ তম জন্মদিনে গায়িকা অ্যানি আহমেদ এবং সঙ্গীতায়োজক সুদীপ্ত পালের তরফ থেকে ছিন্নপত্রের কবিতা সম্মিলিত এই অ্যালবাম রইল সঙ্গীতপ্রিয় মানুষের জন্য।

এতে রয়েছে ৭টি রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং ছিন্নপত্রের ৫টি পত্র। পত্রপাঠে শোনা যাবে অ্যানি আহমেদ এবং উপল সেনগুপ্ত-র কণ্ঠস্বর।
ওইদিন রাবিন্দ্রীক সন্ধ্যার আসরে উপস্থিত ছিলেন সোমলতা আচার্য্য চৌধুরী, পটা, গাবু প্রভৃতি সঙ্গীত জগতের প্রমুখ শিল্পীরা। নাচ, গান, যন্ত্রসঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে ঠাকুরকে স্মরণ করে অনুষ্ঠান এগিয়ে যাচ্ছিল। সঙ্গে ছিল মুচমুচে খাবারের আয়োজন। এরই মধ্যে উপস্থিত সমস্ত তারকাদের সঙ্গে নিয়ে ‘এন্ডেভরিং টেগোর’-এর উদ্বোধন অ্যানি এবং সুদীপ্ত। অ্যালবামের এত খটমট নাম রাখার কারণও ব্যাখ্যা করলেন অ্যানি। বললেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে জানার কোনও শেষ নেই। ইনি এমন একজন মানুষ, যাঁকে নিয়ে যতই গবেষণা করা হোক না কেন, তাঁকে পুরোপুরি জেনে ফেলা কখনওই সম্ভব নয়। সুতরাং কবিকে খোঁজা আমাদের কোনওদিনই শেষ হবে না। এই চেষ্টা আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে। তাই ‘এন্ডেভরিং টেগোর’।’

এটি অন্যান্য রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবামের থেকে অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা। কবিতার সঙ্গে গানের অ্যালবাম আমরা এর আগেও পেয়েছি। এখানে চিঠির সংযোজনটি নতুন। এই অ্যালবামের অভিনবত্বের তালিকায় রয়েছে বিশেষ এক সাউন্ডস্কেপ। সেরকম বাংলা সঙ্গীতে এখনও পর্যন্ত খুব একটা শোনা যায়নি। ‘এন্ডেভরিং টেগোর’-এ ‘পোস্ট রক অ্যামবিয়েন্ট’ সাউন্ড নিয়ে কাজ করেছেন পাল-আহমেদ জুটি। আরও একটি আকর্ষণ হল, বেশ কিছু বিখ্যাত ব্যান্ডের সদস্য এবং বহু গুণী মিউজিশিয়নরা বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত রয়েছেন এই অ্যালবামের সঙ্গে।

গানের মাঝে ছিন্নপত্রের চিঠি পড়ার ধারণাটা কীভাবে এলো জানতে চাওয়ায় গায়িকা বললেন, ” আমি বরাবরই গান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পছন্দ করি। স্টুডিওতে বসে ভাবছিলাম এই অ্যালবামে নতুনত্ব কী রাখা যায়? প্রথমে ‘শেষের কবিতা’-র অংশ পড়ার কথা ভাবি। সুদীপ্ত দা-র সাথে আলোচনায় বসে জানতে পারি ওঁর কাছে ছিন্নপত্র বইটা আছে। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম এইটাই তাহলে পড়া হবে। এরপর শুরু হলো রিসার্চ। কোন গানের সাথে কোন চিঠির সামঞ্জস্য আছে সেটা খুঁজে বার করা খুবই কঠিন ছিলো। এর জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়েছে।” ইয়ুটিউবের যুগে বা ডিজিটল প্ল্যাটফর্মের যুগে সিডি বের করার সাহস দেখিয়েছেন অ্যানি। পুরোটাই সম্ভব হয়েছে ওঁর ইচ্ছে এবং গানের প্রতি ভালোবাসা থেকে। তিনি চেয়েছেন তাঁর প্রথম অ্যালবাম মানুষের কাছে থাকুক, ‘ফিজিকাল কপির’ আকারেই।

প্লেব্যাক গায়িকা, নতুন প্রজন্মের গায়িকা নাকি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, নিজেকে কোন নামে ডাকতে চান অ্যানি? উত্তরে জানালেন, ‘প্লেব্যাক করেছি কিছু স্বল্প বাজেটের ছবিতে। ফলে নিজেকে প্লেব্যাক আর্টিস্ট বলতে কোন আপত্তি নেই।নতুন প্রজন্মের অনেক গায়ক গায়িকারা আছেন। তাঁরা প্রত্যেকে খুব ভাল কাজ করছেন। আমি তাঁদের মধ্যেই একজন। আলাদা করে নিজেকে ‘আমিই নতুন প্রজন্মের গায়িকা’ বলে দাগিয়ে দিতে চাইনা। তবে নিজেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী আমি বলতে চাইনা। কারন আমি বিভিন্ন ভাষার, বিভিন্ন ধরনের গান গেয়ে থাকি। তার মধ্যে অবশ্যই রবি ঠাকুরের গান অন্যতম।’

তরুণ গায়িকা আরও বললেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে করা অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল ‘এন্ডেভরিং টেগোর’। একটা সাহসী পদক্ষেপও বটে। ফলে তিনি আশা করছেন তাঁর এই পরীক্ষামূলক কাজ অধিক থেকে অধিকতর মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।