নিউজপোল ডেস্ক:‌ খাটো ধুতি। গায়ে ময়লা গেঞ্জি। উস্কো–খুসকো চুল। সিনেমা থেকে সাহিত্য— সব জায়গায় এভাবেই তুলে ধরা হয়েছে দলিতদের। এমনকী এখনও ইন্টারনেটে দলিতের ছবি খঁুজতে গিয়ে ও রকমই খাটো ধুতি পরা কাউকে বের করি। স্যুট পরা দলিত‌!‌ নাহ্‌। এখনও সে ধারণা অচল।
এই ভাবমূর্তি তৈরি করার জন্য ভারতীয় সিনেমা কি অনেকটাই দায়ী নয়?‌ আশুতোষ গোয়াড়িকরের ‘‌লগান’‌–এর কথাই ধরা যাক। সেখানে ভুবনের নেতৃত্বাধীন বাহিনী খাটো ধুতি পরেই ক্রিকেট খেলে। সেখানে কারও নাম ‘‌কাচরা’‌ হলেও স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। আরে, ওরা তো দলিত!‌ ওঁদের স্বপ্নে, ওঁদের গানের সিক্যুয়েন্সেও ওঁরা খাটো ধুতি–গেঞ্জি পরেই ঘুরে বেড়ায়। দলিতদের একই ছবি উঠে আসে মৃণাল সেনের ‘‌মৃগয়া’‌ (‌১৮৭৭)‌ ছবিতে। সত্যজিত রায়ের ‘‌অরণ্যের দিনরাত্রি’‌–তেও ডুলি ওই খাটো শাড়িই পরে। ব্লাউজ নেই। টাকা নিয়ে সঙ্গমে লিপ্ত হয়।
১৯৮৫ সালে মুক্তি পায় প্রকাশ ঝাঁর ‘‌দামুল’‌। শাইওয়ালের ‘‌কালসূত্র’‌ গল্প অবলম্বনে। চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের গল্প। সেখানে সব শ্রমিকদেরই গায়ের রং কালো। মুখ ফ্যাকাশে। শ্যাম বেনেগলের ‘‌অঙ্কুর’‌–এও একই ছবি। সেখানে দলিতদের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ, মদ্যপান এসবই উঠে এসেছে। হালের ২০১০ সালের ‘‌পিপলি লাইভ’‌–এ আবার লাইভ হয়েছে কেন্দ্রীয় চরিত্রের দুর্নীতি।
কিন্তু কোনও ছবিতেই দেখানো হয়নি, হয় না যে দলিতরাও স্যুট পরতে পারেন। দলিতরাও পাবে এতে পারেন। দলিতরাও ডিজে স্নেকের মিউজিকে নাচতে পারেন। দলিতরাও বিদেশ যেতে পারেন। শত শত বছর ধরে মানুষের মনে গেঁথে যাওয়া দলিতদের ভাবমূর্তি ভাঙতে চেয়েছিলেন খোদ বি আর আম্বেদকর। তাই খাটো ধুতি গেঞ্জি পরতেন না। বদলে পরতেন স্যুট–টাই। পকেটে গোঁজা থাকত কলম। মনেপ্রাণে এটাই বোঝাতে চেয়েছিলেন। দলিত মানেই অশিক্ষিত নয়। দলিত মানেই চাষবাস করা গেঁয়ো নয়।
কিন্তু সংবিধানের প্রণেতার এই প্রচেষ্টা আজও বোধ হয় সফল হল না। সে কারণেই পূর্ব দিল্লির লোকসভা কেন্দ্রে আপ প্রার্থী আতিশির বিরুদ্ধে আঙুল তোলা হয়। প্যামফ্লেট বিলি করে জানানো হয়, তিনি দলিত। মণীশ সিসোদিয়াকে বলা হয়, ‘‌দলিত হয়েও কীভাবে হ্যান্ডসাম হলেন তিনি?‌’ গত বছর জিনস পরার জন্য গুজরাটে পেটানো হয় ১৩ বছরের এক কিশোরকে। ‌