নিউজপোল ডেস্ক:‌ অগ্নিসাক্ষী করে বিয়ে। পাত্র আবার হিন্দু। তারপর সিঁদুর পরে সংসদে শপথবাক্য পাঠ। এসবের জন্য তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানের কাছে কড়া বার্তা এল যোগীর রাজ্য থেকে। উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের দারুল উলুম অভিনেত্রীর এই কাজকর্মে তীব্র আপত্তি জানাল।
১৯ জুন তুরস্কে কলকাতার ব্যবসায়ী নিখিল জৈনকে বিয়ে করেন নুসরত। লাল লেহঙ্গা চোলি পরে। হাতে মেহেন্দি লাগিয়ে। সেই ছবি এখন ভাইরাল। এর পর নববধূর সাজেই সংসদে শপথ নেন নতুন নির্বাচিত সাংসদ নুসরত। কপালে লাল টিপ। সিঁথিতে সিঁদুর। এসব দেখেই চটল সাহারানপুরের দারুল উলুম। তাদের দাবি, নুসরত যেভাবে এক ভিন ধর্মীকে বিয়ে করেছেন, তা আপত্তিজনক। নুসরতের উচিত ছিল একজন মুসলিমকে বিয়ে করা। এমনিতেই সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ইসলামের নিয়ম ভেঙেছেন। এবার ভিনধর্মে বিয়ে করে সব সীমা ছাড়ালেন। তৃণমূলের তরফে এই নিয়ে যদিও কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।


দেওবন্দের উলেমা মুফতি আসাদ কাসামি বললেন, সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম নুসরত সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র পরে সংসদে শপথ নিচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যম থেকেই জেনেছি, তিনি এক জৈনকে বিয়ে করেছেন। এসব মানা যায় না। এক জন মুসলমান কেবল এক জন মুসলমানকেই বিয়ে করতে পারেন। তিনি এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিনেমার জগতের লোকজন সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করেন। কাসামির কথায়, সিনেমার জগতের লোকজন ইসলামের কোনও নিয়ম–নীতিই মানেন না। নুসরত জাহানও একই কাজ করেছেন। এই নিয়ে নতুন করে কথা বলে লাভ নেই। তাহলে তিনি বলছেন কেন?‌ উত্তরে কাসামি জানালেন, শরিয়াতের হুকুম সংবাদ মাধ্যমের কাছে তুলে ধরতে চান। তাই নুসরত সম্পর্কে এত কথা বলছেন। এমনিতে বিভিন্ন বিষয়ে ফতোয়া জারি করে থাকে দেওবন্দের দারুল উলুম। এজন্য বরাবরই চর্চায় থাকে এই ইসলাম সংগঠন। এবার নুসরতকে নিয়ে মতামত প্রকাশ করল তারা।
তুরস্কের বোদরুমে ১৯ জুন সাত পাকে বাঁধা পড়েন নুসরত জাহান রুহি ও নিখিল জৈন। কলকাতার নামী ব্যবসায়ি পরিবারের ছেলে নিখিলের সঙ্গে বহুদিন ধরেই সম্পর্ক ছিল নুসরতের। নিখিলের টেক্সটাইলের ব্যবসা রয়েছে। বিয়েতে পরিবার এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধব ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অভিনেতী মিমি চক্রবর্তী। ৬ জুলাই কলকাতায় রিসেপশন হবে নুসরতের।