নিউজপোল ডেস্ক: শাহরুখের জায়গায় টম ক্রুজেরই ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’–তে অভিনয় করার কথা ছিল। এরকম পরিকল্পনা করেছিলেন ছবির পরিচালক আদিত্য চোপড়া। সেক্ষেত্রে অবশ্য নায়কের চরিত্রটি প্রবাসী হত না। তাঁর নামও হত না ‘রাজ’। কিন্তু সেই পরিকল্পনা কার্যকর করতে পারেননি পরিচালক আদিত্য। কারণ, শেষ মুহূর্তে বাধ সাধেন তাঁর বাবা যশ চোপড়া।
সফল চিত্রপরিচালক যশ চোপড়ার মনে হয়েছিল, টম ক্রুজকে নায়ক করলে বিদেশের বাজারে নিঃসন্দেহে ভাল ব্যবসা করবে এই ছবি। কিন্তু দেশের মানুষ হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে বিদেশি নায়ককে মন থেকে মেনে নিতে পারবেন না। অতএব, ছবিটি মার খাবে দেশের বাজারে। বাবার উপদেশ মনে রেখে আদিত্য শুরু করেন নতুন নায়ক খোঁজা। যোগাযোগ করা হল শাহরুখ খানের সঙ্গে।
কিন্তু শাহরুখ তখন মূলত খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তাতে সাফল্যও পাচ্ছেন। তিনি পত্রপাঠ আদিত্য চোপড়াকে প্রত্যাখ্যান করে দেন। এরপর আদিত্য সইফ আলি খান এবং আমির খানের সঙ্গে এই চরিত্রটি নিয়ে আলোচনা করলেও, তাঁরা কেউই ‘রাজ’ হতে উৎসাহ দেখাননি। আদিত্যর কাছে শাহরুখ ছাড়া আর কোনও পছন্দসই বিকল্প ছিল না।
২৫ বছর পর পেছন ফিরে তাকালে শাহরুখ খান নিশ্চয়ই ধন্যবাদ দেন আদিত্যর নাছোড়বান্দা মনোভাবকে, যার ফলে তিনি বাধ্য হয়েই ডিডিএলজে-র রাজ চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিটি যে শুধু শাহরুখকে এক ধাক্কায় সুপারস্টারের আসনে বসিয়ে দিয়েছিল তাইই নয়, খানিকটা হলেও বদলে দিয়েছিল ভারতীয় সিনেমার ভাষা।
পাশাপাশি, এই ছবি থেকেই শুরু হয় ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক অন্যতম সফল জুটি, যারা একসঙ্গে কাজ করে কোনও দিন অসফল হননি। না, এখানে শাহরুখ-কাজলের কথা বলা হচ্ছে না। এই জুটি হল শাহরুখ-আদিত্য জুটি। ‘ডিডিএলজে’-র পর ‘মোহাব্বতেঁ’ (২০০০) এবং ‘রব নে বানা দি জোড়ি’ (২০০৮)— যখনই একসঙ্গে কাজ করেছেন শাহরুখ এবং আদিত্য, সুপারহিট ছাড়া অন্য কোনও ফলাফল দেখা যায়নি।