সাগ্নিক মুখোপাধ্যায়: টিভি আগেই করেছিল। বাকি কাজটা করে ফেলল ‌নেটফ্লিক্স। মুঠোয় বন্দী করল গোটা দুনিয়া, তাদেরই মুঠোয় ঢুকে। মানতেই হবে এই নেটফ্লিক্স-জ্বর বেশ ছোঁয়াচে। জ্বর ধরে রাখতে আগামী বছরগুলোতে কী কী আনছে নেটফ্লিক্স?‌
* দ্য আইরিশম্যান ক্লাসিক— গ্যাংস্টার জ্যঁরের কথা মাথায় এলে প্রথম যে মুখটি ভেসে ওঠে চোখের সামনে, তিনি হলেন হলিউডি পরিচালক মার্টিন স্করসিস। নেটফ্লিক্স–এর সাথে এবার তিনি আনতে চলেছেন ‘দ্য আইরিশম্যান’ যাতে দেখা যাবে রবার্ট ডি নিরো, জোপেসি, হারভি কেইটেল এবং আল পাচিনোর মতো প্রথম সারির কিছু অভিনেতাদের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই সিরিজেই প্রথম আল পাচিনোর মতো কিংবদন্তী অভিনেতার সাথে কাজ করছেন স্করসিস। জিমি হোফা নামক জনৈকের হত্যারহস্য এবং তার পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনাসমূহকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতে চলেছে এই সিরিজটির চিত্রনাট্য। চার্লস ব্র্যান্ডটের লেখা এই কাহিনী স্করসিসের উপস্থাপনায় দর্শক মনে কতটা প্রভাব বিস্তার করে তা-ই এখন চর্চার বিষয়।
* গোস্ট ইন দ্য শেল— গোটা বিশ্বের অ্যানিমপ্রেমীদের জন্য আসতে চলেছে এক নয়া চমক। বিখ্যাত দুই জাপানি পরিচালক শিনজি আরামাকি এবং কেঞ্জি কাজিয়ামা যৌথভাবে আনতে চলেছেন ‘গোস্ট ইন দ্য শেল: এসএসি-২০৪৫’ । সম্ভাব্য মুক্তি ২০২০–তে। সিরিজ নিয়ে যাবতীয় আলোচনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন কাস্ট এবং ক্রিউয়েরা। তবে ধরে নেওয়া যায়, অ্যানিম জগতে ‘মোটোকো কুসানাগি’ চরিত্রটিকে আলাদা মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করছেন ‘অ্যাপলসিড’ এবং ‘গোস্ট ইন দ্য শেল: স্ট্যান্ড আলন কমপ্লেক্স’-এর পরিচালকদ্বয়।
* দ্য ডার্ক ক্রিস্টাল- জিম হেনসনের ‘দ্য ডার্ক ক্রিস্টাল’ দর্শকেরা ভুলে যাননি বোধহয়। এবারে ঠিক তার পুনর্জন্ম হতে চলেছে নেটফ্লিক্সে ওয়েব সিরিজ হিসেবে। যেহেতু হেনসন একজন স্বনামধন্য পাপেট অর্থাৎ পুতুল-নাচিয়ে, তাই তিনি এই রিমেকে অতিরিক্ত সিজিআই (‌কম্পিউটারে তৈরি ছবি)‌ ব্যবহার না করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে যে ওঁর পাপেট চোখ টানবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এর মুক্তি বিষয়ক কোনও তথ্য এখনও অবধি জানা সম্ভব হয়নি।
* এক্সট্রিমলি উইকেড, শকিংলি ইভিল অ্যান্ড ভাইল— ‘সিরিয়াল কিলার’, গোয়েন্দা গল্প এবং রহস্য কাহিনীর দুনিয়ায় সবথেকে কাঙ্ক্ষিত চরিত্রদের মধ্যে একটি। ফ্লোরিডা জেলের ডেথ রেজিস্টারে একটি জাজ্বল্যমান নাম হল টেড বান্ডি। সত্তরের দশকের এই ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার এবং নেক্রোফাইলের জীবন অ্যালবামই হতে চলেছে ‘এক্সট্রিমলি উইকেড, শকিংলি ইভিল অ্যান্ড ভাইল’ নামের সিরিজটি। খ্যাতনামা পরিচালক জো বারলিঙ্গার টেডের অপরাধ মনস্তত্ত্ব-এর বিভিন্ন দিককে এই সিরিজে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এখানে বান্ধবী লিলির সামনে টেডের আপাত ভালমানুষ ইমেজটি বজায় রাখার চেষ্টা হিট হতে চলেছে বলে পরিচালক বেশ আশাবাদী।
* য়ু অ্যাসাসিন্স— পছন্দ করে ‘মার্শাল আর্টস’ অথবা ‘ক্যারাটে কিড’?‌ ছোটবেলায় সেই দেখে হাত–পা ছুড়তেন?‌ তাহলে জানিয়ে রাখি আপনাদের অন্যতম প্রিয় অভিনেতা ইকো উয়াইস ‘দ্য রেইড’ এবং ‘মাইল ২২’–এর পরে আনতে চলেছেন ‘য়ু অ্যাসাসিন্স’। নেটফ্লিক্সে এই দশ পর্বের সিরিজটিতে ইকো একজন ছদ্মবেশী গুপ্তঘাতকের চরিত্রে অভিনয় করছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে শুধু অভিনয়ই নয়, এর পাশাপাশি ইকো সিরিজটির প্রধান ফাইট কোরিওগ্রাফার এবং স্টান্ট কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। সান ফ্রানসিসকোর চায়না টাউনে শুট হওয়া ইকোর বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্য ‘মার্শাল আর্টস’ প্রেমীদের কতটা টানে, তা বলবে সময়।
* কাউবয় বিবপ— অ্যানিমেশন প্রেমীদের জন্য আবারও একটি সুখবর। ৯৮-এর ‘কাউবয় বিবপ’ আবারও ফিরে আসতে চলেছে নেটফ্লিক্সের জলসাঘরে। একদল বাউন্টি হান্টারের লোমহর্ষক অ্যাকশনধর্মী কাহিনী। এখানে শিনিচিরো ওয়াটানাবি পরামর্শদাতার কাজ করছেন বলে জানা গিয়েছে। এই সিরিজের লেখক ‘থর র‍্যাগনরক’ খ্যাত ক্রিসটোফার এল ইওস্ট।‌