নিউজপোল ডেস্ক: ১৪ বছরের নাবালিকার সঙ্গে ৫৬ বছরের উকিলের বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলল আদালত। ওই নাবালিকা ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর তার স্বামীর সঙ্গে থাকতে সম্মত হলেও মামলায় জটিলতা রয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি রঞ্জিত মোরে এবং ভারতী ডাংড়ে বাদীপক্ষের আবেদন শোনেন বিশেষত ধর্ষণের বিষয় উত্থাপন হওয়ায়। নাবালিকা বিবাহে ধর্ষণের মামলার আবেদন করে বাদীপক্ষ। উকিলটি প্রায় ১০ মাস বিচারাধীন বন্দি থাকার পর জামিনে ছাড়া পান। ২০১৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ওই নাবালিকা ১৮ বছর পূর্ণ করেন। জামিনে ছাড়া পাওয়া উকিল আবার আদালতে আপিল করেন মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। কিন্ত বিচারপতিদের তরফ থেকে যুগ্মভাবে জানানো হয় এই মামলা উঠে গেলে নাবালিকা বিবাহের বিষয়টি হাল্কা করে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে অন্য বার্তা যেতে পারে সমাজে। ২ মে বেঞ্চ তাঁদের বক্তব্যে বিষয়ের গুরুত্ব জানান। নারীকল্যাণের বিষয়ও উঠে আসে, ফলে মামলা খারিজ করা যায়নি। অভিযোগকারীর দিক থেকে মামলায় স্বামী-স্ত্রী সহবাসের বিষয়টি নজরে আনা হয়। সাবালিকা হওয়ায় এখন বিবাহ আইনসম্মত হলেও এমন ঘটনা কাম্য নয়। সবদিক ভেবে আদালত জানায়, সাবালিকা হলেও ওই কিশোরী অন্তত সামাজিকভাবে বিবাহিত, ফলে তাকে অন্য কেউ আর স্ত্রী হিসেবে মেনে নাও নিতে পারে। কিশোরীটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথাও মাথায় রাখা জরুরি। ওই কিশোরীর নামে অভিযুক্ত উকিলকে ১০ একর জমি এবং ফিক্সড ডিপোজিটে ৭ লক্ষ টাকা হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন ডিভিশন বেঞ্চ যাতে কিশোরীর ভবিষ্যতে যাতে পড়াশুনা বন্ধ না হয়ে যায়। পুলিশকে এই মামলায় নাকগলানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দিয়েছেন এই বেঞ্চ। উকিল স্বামীর বিরুদ্ধে আপাতত পকসো ধারা লাগু হয়েছে। ধর্ষণ এবং বাল্যবিবাহ থেকে আরও বেশ কয়েকটি ধারা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেঞ্চ নজর রাখবে বিষয়ের গতিবিধির প্রতি। আপাতত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি রইল আদালত।