নিউজপোল ডেস্ক:‌ প্রচণ্ড গরম। বাঁচতে ভাবলেন পাহাড়ে যাবেন। পাহাড়ে বেড়াতে গেলে কিন্তু এবার থেকে নিজের যাওয়া–খাওয়ার খরচ ছাড়াও পর্যটককে গুনতে হবে ‘‌সবুজ কর’‌ (‌‌গ্রিন ট্যাক্স)‌‌। আপাতত উত্তরাখণ্ডেই এই নিয়ম চালু হচ্ছে। ধরুন আপনি চার ধাম যাত্রায় যাচ্ছেন বা হিমালয়ের বুকে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস করতে যাচ্ছেন, তাহলে আপনাকে কর বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে।


উত্তরাখণ্ডের বন এবং পরিবেশমন্ত্রী হরক সিং রাওয়াতের সঙ্গে বৈঠকে বসে রাজ্যের পরিবেশ রক্ষা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (‌ইউইপিপিসিবি)‌। সেই বৈঠকেই রাজ্যের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পর্যটকদের থেকে পাওয়া কর রাজ্যের পরিবেশ রক্ষা এবং উন্নয়নে খরচ করা হবে। এই গ্রিন ট্যাক্স আসলে কী?‌ কোনও ব্যক্তি সরাসরি পরিবেশ দূষিত করলে বা পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী হলে এই কর দিতে বাধ্য হন। পরিবেশ দূষণকারী কোনও জিনিস বারবার ব্যবহার করলেও এই কর দিতে হতে পারে। কোনও জায়গার উন্নয়নের অন্যতম মেরুদণ্ড হল এনভায়রমেন্টাল ট্যাক্স রিফর্ম (‌ইটিআর)‌। এই কর আদায় করে দূষণে লাগাম পরানো যায়। পাশাপাশি সেই টাকা দিয়ে এলাকার উন্নয়নও হয়।


কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশের বেশ কিছু সংরক্ষিত অরণ্যে বেড়াতে গেলে পর্যটকদের এই সবুজ কর দিতে হয়। এবার বেঙ্গালুরুর বান্দীপুর ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হলেও দিতে হবে পারে সবুজ কর। গত মাসেই এই প্রস্তাব দিয়েছে কর্ণাটক বন দফতর। উত্তরাখণ্ডেও চালু হতে চলেছে এই সবুজ কর। গত মাসে উত্তরাখণ্ডের আউলিতে শিল্পপতি অজয় গুপ্তার ছেলের বিয়ে হয়। ২০০ কোটির এই বিয়েতে অনুষ্ঠান করে যান ক্যাটরিনা কাইফ, বাদশা। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ৪০ কুইন্টাল (‌৪০০০ কেজি)‌ বর্জ্য জমা হয়। তার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ক্ষোভ জানান পরিবেশকর্মীরা। বাধ্য হয়ে এই সবুজ কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার। বর্জ্য সাফ করার জন্য অজয় গুপ্তা এখনও পর্যন্ত ৫৪ হাজার টাকা দিয়েছেন। চাপে পড়ে জানিয়েছেন, সাফাই করতে যা টাকা লাগবে, সবটাই তিনি দিয়ে দেবেন।