নিউজপোল ডেস্ক:‌ সমাজ, স্বজন, চিকিৎসকরা তাকে ‘‌বিশেষভাবে সক্ষম’‌–এর তকমা দিয়েছিল। সিবিএসই পরীক্ষায় কৃতিমান দাশগুপ্ত প্রমাণ করে দিল, যে সে সত্যিই বিশেষ। দশম শ্রেণীর পরীক্ষায় অটিস্টিক এই ছাত্র পেয়েছে ৯২ শতাংশ। তার এই কৃতিত্বে আপ্লুত দিল্লি পাবলিক স্কুল রুবি পার্কের শিক্ষকরা।
কৃতিমানের বাড়ি রবীন্দ্র সরোবরের কাথে রসা রোডে। ছোট থেকেই জটিল স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত সে। কোনও কিছু নিয়েই বেশি চাপ নিতে পারে না। চিকিৎসকরাও বারবার এই নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাই বাবা রাজা দাশগুপ্ত আর মা স্বাতী কোনওদিনই পড়াশোনা নিয়ে চাপ দেননি ছেলেকে। বরং চেয়েছেন, সঙ্গীত নিয়েই জীবনে এগিয়ে যাক ছেলে।
কৃতিমান শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ছাত্র। নিয়মিত তালিম নেয়। কিবোর্ড, হারমোনিকার বাজায়। স্বাতীদেবীর কথায়, ছোট থেকেই বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের প্রতি ছেলের ঝোঁক। কাউকে শেখাতে হয়নি। সুর, তাল, লয় সম্পর্কে দারুণ জ্ঞান। এসবের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও যে এত ভাল ফল করবে কৃতিমান, স্বপ্নেও ভাবেননি বাবা–মা। মনের জোরেই এতটা রাস্তা পার করেছে অটিস্টিক কৃতিমান। আর অবশ্যই প্রতি মুহূর্ত পাশে থেকেছেন বাবা–মা।
তাঁরা দু’‌জনেই সরকারি চাকরি করেন। কাজ সামলে ছেলেকে পড়াশোনায় সাহায্য করেছেন। বাড়িতে কোনও শিক্ষক ছিল না কৃতিমানের। স্বাতীদেবী ছেলের এই ফলাফলের জন্য স্কুলকেই বেশিরভাগ কৃতিত্ব দিচ্ছেন। জানিয়েছেন, স্কুলের শিক্ষকরা পাশে না থাকলে এতটা পথ পেরোতে পারত না ছেলে। ক্লাস টেনে কৃতিমান অঙ্কের বদলে মিউজিক নিয়েছিল। ছেলের ওপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে, তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বাতী দেবীরা। স্কুলও মেনে নিয়েছিল বিষয়টা।
কৃতিমানের এই দীর্ঘ যাত্রায় সঙ্গে ছিল তার গান। আর ছোট বোন। এই দুই তার পথ চলার রসদ জুগিয়ে গেছে। আগামী দিনেও তার ব্যতিক্রম হবে না। ভবিষ্যতে সঙ্গীত নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা কৃতিমানের।

ছবি ইন্টারনেট থেকে