নিউজপোল ডেস্ক: চিকিৎসাক্ষেত্রে মিউজিক থেরাপি এখন নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে মনোরোগের মোকাবিলা করতে সঙ্গীতের সাহায্য নিচ্ছেন বেশ কিছু চিকিৎসক। কিন্তু অস্ত্রোপচারে গান কী করে সাহায্য করতে পারে! এমনটা কিন্তু ঘটেছে, তাও ইংল্যান্ড আমেরিকা নয়, খোদ কলকাতার বুকে। সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ যাকে সবাই ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল নামে চেনেন, সেখানেই ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ৫০ বছরের মৌসুমি গোস্বামীর স্তন ক্যানসারের জন্য অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ট্রমার শিকার মৌসুমিদেবী অস্ত্রোপচার করাতে ভয় পাচ্ছিলেন। তিনি চিকিৎসকদের ‘জেনারেল অ্যানাস্থেশিয়া’ করার অনুরোধ জানান। এই ধরনের অ্যানাস্থেশিয়ার রোগী সম্পূর্ণ বেহুঁশ হয়ে পড়েন। কিন্তু মৌসুমিদেবীর উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড এবং স্থূলতার সমস্যা থাকায় শল্য চিকিৎসকরা তা করতে চাননি।
মৌসুমির ধ্রুপদী সঙ্গীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে এবং তিনি গান গাইতে খুবই ভালবাসেন। এটা জানতেন চিকিৎসক অর্ণব গুপ্ত। পরিস্থিতি সহজ করতে তিনি মৌসুমিকে গান গাইতে অনুরোধ করেন। প্রথমে রাজি না হলেও গান ধরেন রোগী। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গলা মেলান ড. অর্ণব গুপ্ত। মৌসুমিদেবীর ভয় এবং নার্ভাসনেস কেটে যেতে থাকে। শুরু হয় অস্ত্রোপচার। মৌসুমিদেবী এবং অর্ণববাবু একসঙ্গে গাইতে থাকেন মান্না দে’র বিখ্যাত গান, ‘যদি কাগজে লেখ নাম’। কিছুক্ষণ পর রোগী ভুলেই যান তাঁর শরীরে ছুরি-কাচি চলছে। যেন মঞ্চে পারফর্ম করছেন, এমনভাবে একের পর এক গান গাইতেই থাকেন। নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় অস্ত্রোপচার। বলা যায়, আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাঁচাল সঙ্গীত।