তমাল পাল: ভোট প্রচারে ‌তাণ্ডবের জেরে ভাঙল বিদ্যাসাগরের মূর্তি। অধিকাংশের অভিযোগের আঙুল বিজেপি সমর্থকদের দিকে। এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বিশিষ্টরা। ক্ষুব্ধ বিদ্যাসাগর কলেজের পড়ুয়া, শিক্ষক থেকে প্রাক্তনরা। এবার মূর্তি পুনর্নির্মাণে এগিয়ে এলেন কলেজের প্রাক্তনীরাই। এই মর্মে অধ্যক্ষকে আবেদন জানিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা।
বিদ্যাসাগর কলেজের প্রাক্তন ছাত্র তমাল মিত্র বললেন, ‘‌গতকাল বিদ্যাসাগর মহাশয়ের যে মূর্তিটি ভেঙে গেছে, আমরা প্রাক্তনীরা মিলে সেই মূর্তি আবার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এজন্য সমস্ত খরচের দায়ভার আমরা, প্রাক্তনীরাই বহন করব। কলেজ কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানায়নি। কলেজের পরিচালন সমিতি এই নিয়ে বৈঠকে বসবে। তার পরেই তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা, প্রাক্তনীরা আবার বিদ্যাসাগরের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করব’‌।
মঙ্গলবার বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর রোড শো চলছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ গোলমাল শুরু হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস থেকে। শাহকে কালো পতাকা দেখানোর জন্য গেটের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন টিএমসিপি-সমর্থকেরা। গোলমাল এড়াতে বিজেপির প্রচারের ব্যানার দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ভিতর থেকে মিছিল লক্ষ্য করে জলের বোতল, আইসক্রিমের কাপ ছোড়া হয়। পাল্টা আক্রমণ করে বিজেপি সমর্থকরাও।
এই অবস্থায় শাহর গাড়ি দ্রুত এগিয়ে যায়। যদিও ঝামেলা পিছু ছাড়েনি তাঁর। বিদ্যাসাগর কলেজের বিধান সরণি ক্যাম্পাসের ভিতর থেকে মিছিল লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। শাহকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান লেখা কালো পতাকা দেখানো হয়। শাহর গাড়ি এগিয়ে যাওয়ার পরই বিজেপি সমর্থকরা বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে পড়ে। ভেঙে দেয় টেবিল, চেয়ার। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি বিদ্যাসাগরের মূর্তিও। তবে বিজেপি মূর্তি ভাঙার দায় নিতে চায়নি। অমিত শাহ উল্টে এজন্য তৃণমূলকেই দোষারোপ করেছেন।