নিউজপোল ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার প্রাচীনতম প্রেমের পীঠস্থান বলাই যায় এই অঞ্চলকে। প্রকৃতিপ্রেমী এবং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষেরও অত্যন্ত পছন্দের জায়গা রবীন্দ্র সরোবর। কয়েক বছর আগে জায়গাটির সংস্কার হলেও কয়েকটা সমস্যা বহাল রয়েছে এখনও— লেক অঞ্চলে আবর্জনা ছড়ানো এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য এই জলাশয়কে ব্যবহার করা। সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি প্রচেষ্টা অনেকাংশে বিফলে গেলেও, হাল ছাড়ছেন না ‘লেক মমতা’।
বছর ৫০-এর এই মহিলার আসল নাম সুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও বর্তমানে এই নামে তাঁকে কেউ ডাকে বা চেনে না। গত ১৫ বছর ধরে ইনি দায়িত্ব নিয়ে করে চলেছেন লেক অঞ্চল আবর্জনা মুক্ত রাখার কাজ। দৈনিক যাঁরা লেকে হাঁটতে যান, তাঁদের কাছে অতি পরিচিত মুখ লেক মমতা। প্রত্যেকদিন সকাল ৫টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁকে দেখা যায় হাতে লাঠি নিয়ে গোটা লেক ঘুরে বেড়াতে। লেকের জলে স্নান করা হোক অথবা কাপড় কাচা, যত্রতত্র ময়লা বা থুতু ফেলা, সমস্ত কিছুর প্রতিরোধেই দেখা যায় তাঁকে। কাউকে নিয়ম ভাঙতে দেখলেই তাঁকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের হাতে তুলে দেন। অভিযুক্তের শাস্তি হল কিনা সেই বিষয়েও নজর রাখেন তিনি।
পুলিশ থেকে রোজ লেকে ঘুরতে আসা লোকজন, খুচরো ব্যবসায়ী থেকে স্থানীয় ভিখারি, সকলেরই অত্যন্ত শ্রদ্ধার মানুষ লেক মমতা। গত ১৫ বছরে, শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা নির্বিশেষে তাঁকে কোনও দিন ছুটি নিতে দেখা যায়নি। জানা যায়, প্রথমে প্রাতঃভ্রমণে লেকে আসতেন মমতাদেবী। ধীরে ধীরে জায়গাটির সঙ্গে একাত্ম বোধ করতে শুরু করেন তিনি। ক্রমশ নিজেই দায়িত্ব নিয়ে নেন লেকটিকে আবর্জনা মুক্ত রাখার এবং রক্ষণাবেক্ষণ করার।
কিন্তু একটি বিষয় আজও ভাবিয়ে তোলে তাঁকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, লেক অঞ্চলের ভেতরে সিমেন্টের বাধানো রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, গাছের চারদিকে বেদি বানিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে সংস্কারের সময়। এর ফলে আলগা হয়ে যাচ্ছে গাছের শিকড়, ঝড় এলেও উপড়ে যাচ্ছে গাছ। এই বিষয় নিয়ে মমতা এবং তাঁর সহকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টেও গেছেন। তবে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি এখনও।