তমাল পাল:‌ ক্রিকেট হোক বা ভোট উৎসব— জুয়ার বাজারে রমরমা লেগেই রয়েছে। আইপিএল শেষ হতে না হতেই এসে গিয়েছে লোকসভা নির্বাচন। রাত পোহালেই লোকসভা নির্বাচন আর সেই খেলাতেই বাজার দরে মিমি চক্রবর্তী, নুসরত জাহানরা পিছনে ফেলে দিচ্ছেন বিজেপি–সিপিএমের বড় বড় রাজনৈতিকতা ব্যক্তিত্বকে।
দেড় মাসে, সাত দফার ভোটের পর অবশেষে আগামীকাল কাল ফলাফল। দিল্লির গদিতে কারা সরকার গড়বে তা নিয়ে সারা দেশ তাকিয়ে থাকলেও, কলকাতার জুয়াড়িদের নজর কিন্তু কলকাতা এবং শহরতলির প্রার্থীদের দিকেই। তাঁদের জুয়ার দরে সকলকে পিছনে ফেলে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূলের দুই তারকাপ্রার্থী মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরত জাহান। তাঁদের জয়ের পক্ষেই বাজি ধরেছেন বেশিরভাগ লোক। সেখানে অনেকটাই পিছিয়ে বিজেপি ও বাম প্রার্থীরা। এবারের ভোটে যে পরিমাণ টাকার জুয়ো খেলা হচ্ছে, তা নাকি আইপিএলকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে বলে দাবি জুয়াড়িদের।
দমদম এলাকার এক জুয়াড়ির দাবি, ‘‌ভোটে যে এতটাকার খেলা হতে পারে, সেটা আমরা আগে কখনও দেখিনি। টাকার লেনদেন নগদেই হয়। তবে কে কতটাকা লাগাবেন, সেটা ঠিক হয়ে যায় এক বা একাধিক হোয়্যাটসঅ্যাপ গ্রুপে কথোপকথনের মাধ্যমে।’‌ মিমি–নুসরত ছাড়াও তারকা প্রার্থীদের মধ্যে বিজেপি বাবুল সুপ্রিয় এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ওপরেও মোটা টাকা লাগানো হচ্ছে। তবে মিমি–নুসরতদের তুলনায় টাকার অঙ্ক নাকি কিছুই নয়!‌ তবে এই পছন্দের দিক থেকে বাম–রা একটু বেশিই যেন পিছিয়ে। ওই জুয়াড়ির কথায়, ‘‌কাল (‌বৃহস্পতিবার)‌ ভোটের ফলাফলের উপর আমাদেরও ভাগ্য জড়িয়ে রয়েছে। আশা করি আমাদেরও ভাগ্য খুলবে।’‌ কারা লাগাচ্ছেন এই পরিমাণ টাকা?‌ ওই জুয়াড়ি বললেন, ‘‌আমরা যারা নিয়মিত জুয়ো খেলি এবং খেলাই, তারা বাদেও অনেক সাধারণ মানুষও পছন্দের পার্থীর উপর টাকা লাগিয়েছেন।’ আরও বললেন, ‘জুয়ো আমাদের নেশা হলেও, সারা বছর জুয়ো খেলে পেট চালাতে কার ভাল লাগে? ভোট আসে আর যায় আমাদের কিছু হয় না। তাই আমাদের নেশাকেই পেশা বানিয়ে নিতে হয়।’