তমাল পাল: এক আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতে দানা বাঁধছে আর এক আন্দোলন। বহু প্রতীক্ষিত মুখ্যমন্ত্রী–জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকের পরে অবশেষে অচলাবস্থা কেটে রাজ্যে স্বাভাবিক হয়েছে স্বাস্থ্য পরিবষেবা। এরই মধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনে খালি আসনের নিয়োগের দাবিতে মার্চ মাসে অনশনে বসেছিলেন যে সাড়ে চারশো হবু শিক্ষক, তাঁরা ফের আন্দোলনে নামার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। দরকার হলে ফের অনশনে বসা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
ধর্মতলা চত্বরে ২৯ দিন অনশন করেছিলেন হবু শিক্ষকরা। দাবি ছিল, অবিলম্বে এসএসসি–র শূন্যপদগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আশ্বাসে অনশন ওঠে। শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস ছিল, সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচজন এবং আন্দোলনকারী হবু শিক্ষকদের পাঁচজনকে নিয়ে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই কমিটি সমাধান করবে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান মুখ অর্পিতা দাসের দাবি, ‘‌লোকসভা নির্বাচন এবং তার ফলাফল প্রকাশের জন্য এই কমিটির কোনও কাজ করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রীও নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসতে পারেননি। তবু আমরা অপেক্ষা করে ছিলাম। কিন্তু ভোট মিটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও বৈঠক হয়নি।’‌ অর্পিতার আরও দাবি, ‘‌বিকাশভবনের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়, সরকার পক্ষের যে আধিকারিকদের এই কমিটিতে রাখা হয়েছিল, তাঁরা এখন অন্য কাজে রাজ্যের বাইরে। কিন্তু আমরাই বা কতদিন অপেক্ষা করব?‌’এখন যা পরিস্থিতি, তাতে চলতি মাসের মধ্যেই সরকারপক্ষের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান আন্দোলনকারীরা। ‌অর্পিতা বলছেন, ‘‌যদি ওই বৈঠক থেকে ইতিবাচক কোনও বার্তা না পাই, তাহলে ফের অনশনে বসব।’‌
অভিযোগের এখানেই শেষ নয়। অর্পিতা মনে করছেন, ‘‌আমাদের সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত বৈঠক করা উচিৎ ছিল। এখনও কিছুই করা হয়নি। সরকার আমাদের এবং আমাদের দাবিগুলো ভুলে গিয়েছে। পুরো ব্যাপারটাই খুবই হতাশাজনক।’‌ এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে, কমিটির একটিও বৈঠক না হওয়ায় নাকি ২০ জুন থেকে অনশনে বসতে চলেছেন হবু শিক্ষকরা। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের তরফে ইনসান আলি বলেছেন, ‘‌এটা মিথ্যা রটনা। কোনও নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি। আমরা সকলেই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। বৈঠকে সুফল না পেলে তখন অনশনের ব্যাপারটা ভাবা হবে।’‌