তমাল পাল: গ্রীষ্মের দাবদাহ কিংবা বর্ষার জমা জল। মানুষেরই ভোগান্তির শেষ নেই। ছাতা থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের ব্যবহারের পরেও নাভিশ্বাস ওঠে আমাদের। সেখানে কী দুর্বিসহ অবস্থা হয় পথের মালিকবিহীন কুকুরদের, সেটা ভাবেন না অনেকেই। তবে একটু অন্যরকম ভেবেছিলেন বেলেঘাটার মৌলিকবাড়ির সদস্যরা। তাই কুকুরদের একটু স্বস্তি দিতে বাড়ির মধ্যেই তৈরি করে দিলেন সুইমিং পুল। পাশাপাশি বাড়ির দরজার সামনে তাঁরা তৈরি করে দিয়েছেন কুকুরদের থাকার দু’‌টি ঘর। রোদ–জল থেকে বাঁচার জন্য এটাই স্থানীয় কুকুরদের আস্তানা। আপাতত অবশ্য দু’‌টি ঘরে সব মিলিয়ে গোটা ছ’‌য়েক কুকুর থাকতে পারবে। তবে ভবিষ্যতে ঘরের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছেন মৌলিকরা। ঘরের মধ্যে কাপড়, কাগজ ও বস্তা দিয়ে বানানো রয়েছে কুকুরদের বিছানা। মাটির হাঁড়িতে রাখা রয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলও। সময় মতো দেওয়া হয় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।
পাশাপাশি রোজই বাড়ির ভিতরে সুইমিং পুলে সাঁতরে শরীর ঠান্ডা করে নিচ্ছে সারমেয়রা। কুকুরদের দেখাশুনোর মূল দায়িত্ব মৌলিকবাড়ির সদস্য বিশ্বজিতের ওপরে। বছর চল্লিশের বিশ্বজিৎ বললেন, ‘‌পুরো খরচটাই আমরা চালাই। শুধু খাওয়া–দাওয়া কিংবা সাঁতার নয় কুকুরদের কোনও অসুখ হলে তাদের ওষুধ দেওয়ার কাজটা আমরাই করি। আমরা চাই, পাড়ার সকলের নিজেদের সাধ্যমতো পাড়ার কুকুরদের পাশে দাঁড়াক।’‌
মৌলিকদের দেখানো পথ অনুসরণ করে প্রতিবেশীরাও কুকুরদের সেবায় এগিয়ে এসেছেন। তবে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এই কাজে বিরোধিতা এসেছিল বলে অভিযোগ বিশ্বজিতের। তবে তার জন্য কাজ আটকায়নি। শুধু পথের কুকুরদের সাহায্য করাই নয়, আরও নানারকম সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। দুঃস্থ শিশুদের খাওয়ানো, বস্ত্রদান, এলাকার দুঃস্থ রিকশাচালকদের সাহায্যও করেন তাঁরা।