তমাল পাল: এবার থেকে যদি বাসে উঠে দেখেন, সিটের পাশে রাখা একটি গাছের টব, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এমনই পরিকল্পনা করছে ‘‌প্ল্যান্টিং আস’ নামে এক সংগঠন। তাদের মতে গাছ লাগানোটাই যথেষ্ট নয়। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি আমজনতার মধ্যে তৈরি করতে হবে সচেতনতাও। তাই শহরের রাস্তায় গাছ লাগানোর সঙ্গেসঙ্গে বিভিন্ন রুটের বাসের মধ্যে একটি করে টবসহ গাছ রাখার অভিনব পরিকল্পনাও করেছে তারা। সেই গাছের টবে লেখা থাকবে, গাছের সংখ্যা কমে গেলে কী কী ভয়াবহ সমস্যার সামনে পড়তে হবে মানবজাতিকে। অনেকে ঘরের মধ্যে শখ হিসেবে গাছ রাখলেও বাসের মধ্যে গাছের টব রাখার পরিকল্পনা নজিরবিহীন।

‘‌প্ল্যান্টিং আস’‌ মনে করছে, সচেতনতা বাড়াতে যেখানেই সম্ভব হবে, সেখানেই গাছ লাগানোর আর্জি জানাতে হবে। হয়তো তাতেই হুঁশ ফিরবে মানুষের। এই পরিকল্পনার পাশাপাশি রবিবার শ্যামবাজারের দেশবন্ধু পার্ক এলাকায় ৯০টি গাছের চারা লাগালেন তাঁরা।
‘‌প্ল্যান্টিং আস’ কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নয়। নেহাতই ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হওয়া কিছু তরুণ–তরুণীদের একটি দল। দেশজুড়ে জলকষ্ট ও প্রাকৃতিক দূষণের যে ভয়াবহ ছবি উঠে আসছে, তা দেখে ফেসবুকের মাধ্যমেই একজোট হয়েছেন তাঁরা। যাঁদের লক্ষ্য গাছ লাগিয়ে গোটা শহর সবুজে মুড়ে দেওয়া। ‘‌প্ল্যান্টিং আস’–এর তরফে


প্রধান উদ্যোক্তা দৃপ্ত সমাজদার বলছেন, ‘ফেসবুকে বেশ কিছুদিন ধরে গাছ কাটার, জল অপচয়ের প্রতিবাদ দেখছি। কিন্তু সেটা শুধু মাত্র ফেসবুকের মাধ্যমেই। মনে হয়েছিল রাস্তায় নামাটাও দরকার। দিনের পর দিন ফেসবুকে এই সব দেখে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। একজোট হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই আমাদের প্রথম কর্মসূচি করতে পারছি। এবারে নব্বইটা আমরা গাছ লাগাতে পারলাম।’ তবে এই বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ কি শুধু একদিনের জন্য? তার জবাবে দৃপ্ত বলেন, ‘বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ একদমই শুধু একদিনের জন্য নয়। আজকের মতো করেই আমাদের সপ্তাহে একটি করে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ চলবে বিভিন্ন জায়গায়। তাছাড়াও প্ল্যান্টিং আস পরিবেশ নিয়ে সাধারণ মানুষদের মধ্যে সচেতন বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন শিবিরও করবে। আর গাছ কেনার টাকা পুরোটাই চাঁদা তুলে হচ্ছে।’‌
‘‌প্ল্যান্টিং আস’–এর দৃপ্ত, ঋদ্ধি, মুর্শিদ, সোহিনী, সুশ্রুত, অপলাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়াও রবিবারের অনুষ্ঠানে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গায়ক তিমির বিশ্বাস। তিনি বললেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের আরও অনেক সচেতন হতে হবে। সেখান থেকে প্ল্যান্টিং আস–এর উদ্যোগটা প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগের পুরো প্রচারটাই হয়েছে ফেসবুকের মাধ্যমে। আমি সব সময় ফেসবুকের মাধ্যমে ইতিবাচক কিছু ছড়িয়ে দিতে চাই। আমি ওদের পাশে আছি। প্রকৃতিকে বাঁচানোর সাধ্য আমাদের মধ্যে নেই। প্রকৃতি কিন্তু নিজেকে অদল–বদল করে বাঁচিয়ে নেবে। তবে সেখানে মানুষ থাকবে কি না, সেটা মানুষকেই ঠিক করতে হবে। এই লড়াইটা নিজেকে বাঁচানোর জন্যই’‌ তিমির ছাড়াও এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন গায়ক রূপম ইসলাম, অনুপম রায়, অভিরূপ দাস (‌বান্টি)‌, রনি চক্রবর্তী, কৌশিক চক্রবর্তী, তিমির বিশ্বাস এবং তমালকান্তি হালদাররা।