নিউজপোল ডেস্ক:‌ অবশেষে তবরেজ আনসারির গণপিটুনিতে হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন নরেন্দ্র মোদী। বললেন, ‘‌ঝাড়খণ্ডকে অনেকে গণপিটুনির আঁতুড়ঘর বলে চিহ্নিত করছেন। এটা ঠিক নয়।’ শনিবার‌ বিজেপি–শাসিত ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লায় চোর সন্দেহে ১৮ ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তবরেজ আনসারি নামে এক যুবককে। তাঁেক দিয়ে জোর করে ‘‌জয় শ্রীরাম’‌ শ্লোগানও বলানো হয় বলে অভিযোগ। যদিও এই ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১১জনকে। তবে এ নিয়ে এতদিন মোদীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বুধবার মোদী সংসদ অধিবেশনে বলেন, ‘‌এই ঘটনায় আমি দুঃখিত। অপরাধীদের কড়া সাজা হবে। এর জন্য আমার যা করণীয়, সেটা করব।’‌ তবে বিরোধীরা ঝাড়খণ্ডকে যেভাবে গণপিটুনির আঁতুরঘর বলে সমালোচনা করেছেন, সেটাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে করছেন মোদী।
মোদী বলেন, ‘‌রাজ্যসভার কয়েকজন সদস্য ঝাড়খণ্ডকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন। এটা কি ঠিক?‌ কোনও রাজ্যকে অপমান করার অধিকার আমাদের কারও নেই।’‌ ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের দিকেও বিরোধীদের দেখা উচিৎ বলে মনে করছেন তিনি। মোদী বলেন, ‘‌কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গে যখন কোনও অপরাধ ঘটে, সেটার সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের অপরাধকেও সমান নজরে দেখা উচিৎ। তবেই হিংসাত্মক ঘটনা ঠেকানো যাবে। মানবতা বজার রাখাটা আমার কাজ। আমি সেটা করব। নিরাপত্তা পাওয়াটা দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।’‌
বিরোধীরা অবশ্য শুধু ঝাড়খণ্ড সরকারের তীব্র সমালোচনা করেই থামছেন না। তাঁদের খোঁচা, ‘‌এটাই কি মোদীর নতুন ভারত? এই ভারতের স্বপ্নই কি মোদী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে দেখিয়েছিলেন?‌’‌‌ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইটারে তবরেজের মৃত্যুকে ‘‌মানবতার কলঙ্ক’‌ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ–ও বলেছেন, এই বিষয়ে বিজেপি ও সরকারের কেন্দ্রীয় নেতাদের মৌনতা তাঁকে ব্যথিত করেছে।