নিউজপোল ডেস্ক: ডেটিং অ্যাপ এবং সোশ্যাল সাইট নিয়ন্ত্রিত আজকের জীবনে, নিজেকে ছাড়া সবাইকেই জোড়ায় জোড়ায় চোখে পড়ে। বসন্তের বিকেলে একা হাঁটতে হাঁটতে পাশে হাঁটা প্রেমিকযুগলকে দেখে বুকটা হু হু করে ওঠে অনেক সময়ই। কিন্তু যুগের হাওয়া মেনেই বাড়ছে কেরিয়ারের চাপ— কর্মক্ষেত্রে উন্নতি এবং সম্পর্কের প্রতি অঙ্গীকার খানিকটা হলেও পরস্পরবিরোধী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দু’দিকের তাল সামলাতে না পেরে যাঁরা হিমশিম খেয়ে মনোকষ্টে ভুগছেন, বিজ্ঞানীরা তাঁদের জন্য এনেছেন স্বস্তির খবর।

একজন সঙ্গী থাকলে ভাল নিশ্চয়ই লাগে, কিন্তু বেশ কয়েকটি সমীক্ষা জানাচ্ছে, একা বেঁচে থাকাও নেহাৎ মন্দ নয়। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ববিদ এরিক ক্লিনেনবার্থের গবেষণা জানাচ্ছে, যাঁরা একা থাকেন, তাঁরা সঙ্গীর সঙ্গে যাঁরা থাকেন তাঁদের তুলনায় সামাজিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয়। যে সমস্ত শহরে সিঙ্গল লোকজনের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি, সেসব শহরে একটা ক্রমবর্ধমান সামাজিক সংস্কৃতি রয়েছে।

 

সমাজবিজ্ঞানী নাতালিয়া সার্কিসিয়ান এবং নাওমি গার্স্টেলের গবেষণা অনুসারে, সিঙ্গল মানুষ অনেক বেশি সামাজিক হন এবং মেলামেশা করেন। তাঁদের একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক এতটাই দৃঢ় হয় যে বিপদে আপদে তাঁরা একে অপরকে সাহায্যও করে থাকেন।

সিঙ্গল মানুষেরা শারীরিকভাবে অনেক বেশি ফিট হন। ১৮-৬৪ বছর বয়সি ১৩,০০০ জনকে নিয়ে করা সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, যাঁরা জীবনে কখনও বিয়ে করেননি, তাঁরা ব্যায়াম এবং শরীরচর্চার দিকে অনেক বেশি মনোযোগ দেন। পাশাপাশি এটাও জানা যাচ্ছে, যে একা থাকা মানুষজন অনেক বেশি আত্মস্থ হন সঙ্গীর সঙ্গে থাকা মানুষের তুলনায়। তাঁরা ব্যক্তিগত দিক থেকে অনেক বেশি উন্নত এবং তাঁদের চিন্তাভাবনা অনেক বেশি গুছনো হয়। ১৯৯৮ সালের পরিবার এবং সংসার নিরীক্ষণ বা সার্ভে অফ ফ্যামিলি অ্যান্ড হাউজহোল্ডস জানিয়েছিল, সিঙ্গল মানুষেরা ব্যক্তিগত বিকাশের দিক থেকে অনেক বেশি এগিয়ে। আজকের পৃথিবীর জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।