নিউজপোল ডেস্ক: ‘‌বসু’‌ পদবী শুনলেই আমাদের বাঙালির মনে আসে শুধু দু’‌জনের কথা। এক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং দুই জ্যোতি বসু। কিন্তু বলুন তো আমরা কতজন রাসবিহারী বসুকে মনে রাখতে পেরেছি? ‌তিনিই ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগঠক। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে এখানেই শেষ নয়, তিনিই প্রথম যিনি বাঙালি খাবারকে নিয়ে যান জাপানে। আজও টোকিওর রেস্তোরাঁতে বাঙালি খাবার পরিবেশন করা হয়।
পাতলা মুরগির ঝোল যা টোকিওর রেস্তোরাঁতে ‘‌নাকামৌর্য’‌–এর কারি নামে পরিচিত। এই নামের এক বেকারিতে প্রথম এই মুরগির ঝোল পরিবেশন করা হয় বলেই এই নামেই পরবর্তীকালে তা পরিচিতি পায়। এই খাবারের সঙ্গে রাসবিহারী বোসের কি সম্পর্ক রয়েছে আসুন তা জেনে নেওয়া যাক। শোনা যায়, ব্রিটিশদের চোখে ফাঁকি দিয়ে জাপানে লুকিয়ে ছিলেন রাসবিহারী। সেই সময় তিনি তাঁর বাড়ির মুরগির ঝোল খেতে পারছিলেন না বলে খুব হতাশায় ছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত তিনি নিজেই রাঁধলেন সেই মুরগির মাংসের ঝোল। প্রসঙ্গত, ১৯১২ সালে দিল্লিতে বড়লাট হার্ডিঞ্জের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। এই হামলা ও ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিলেন রাসবিহারী বসু। এই ঘটনায় তাঁর ফাঁসির সাজা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তাঁকে কখনোই গ্রেফতার করতে সফল হয়নি। তিনি ব্রিটিশ পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে কলকাতার খিদিরপুর বন্দর থেকে জাপানি জাহাজ ‘‌সানুকি–মারু’‌–তে করে তিনি ভারতবর্ষ ত্যাগ করেন। জাপানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিতসুরু তোয়ামা তাঁকে এই দেশে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিলেন।
জানা গিয়েছে, সেই সময় রাসবিহারী টোকিওর সোমা পরিবারের নাকামৌর্য বেকারির ভূগর্ভে লুকিয়ে ছিলেন। আইজো ও কোতসুকো সোমা ভারতীয়দের সমর্থন করতেন বলে রাসবিহারীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। রাসবিহারী পরে তাঁদেরই বড় মেয়ে তোসিকোকে বিয়ে করেন। এরপরই তিনি তাঁর শ্বশুড়ের সঙ্গে যৌথভাবে ছোট একটি রেস্তোরাঁ খোলেন। যেখানে ভারতীয় খাবারের পাশে বাঙালি খাদ্যও পরিবেশন করা হতো। আজও টোকিওর রেস্তোরাঁতে গেলে সেখানকার মেনুকার্ডে ‘‌মুরগি লাঞ্চ’‌–এর উল্লেখ রয়েছে। এই ডিশটিকে ‘‌ভারতীয় বিপ্লবীর সৃষ্টি’‌ বলা হয়। হলুদ পোলাওয়ের সঙ্গে সবজির আচার, আলু মাখা, সেদ্ধ বাঁধাকপি এবং মুরগির ঝোল সহকারে টোকিওর রেস্তোরাঁতে এটা পরিবেশন করা হয়।

রাসবিহারী বসু ও তাঁর স্ত্রী তোসিকো।

রবিবার হোক বা অন্য কোনও দিন, বাঙালির ঘরে বেশ জনপ্রিয় এই পাতলা মুরগির মাংসের ঝোল। তবে জাপানে গেলে সুশির পাশাপাশি চেখে দেখা যেতেই পারে রাসবিহারী বসুর হাত ধরে আসা পাতলা মুরগির ঝোল বা নাকামৌর্য কারি।