নিউজপোল ডেস্ক: ইন্টারনেটের যুগ। হাতে নিয়ে বই পড়ার নস্টালজিয়া যতই থাক, দিনের শেষে সেই মোবাইল বা ট্যাবের পর্দায় ই-বুক পড়তেই পছন্দ করি। বিছানায় শুয়ে হোক কিংবা ভিড়ে ঠাসা অফিস ফেরত বাস, যেকোনও পরিস্থিতিতে ভরসা পিডিএফ-এই। ইদানীং অডিও সিরিজেরও চাহিদা বাড়ছে। ব্যতিব্যস্ত সময়ে পড়ারও ফুরসত নেই। গল্প কিংবা উপন্যাসের রস যদি শুনেই পাওয়া যায়, কষ্ট করে বই পড়ে কে? হাতে যদি সময় থাকে এই আমেজ পেতে পারেন ‘হিউম্যান লাইব্রেরি’-তে। তাও আবার খোদ কলকাতায়। পুরো জমে ক্ষীর!
পড়ার চেয়ে শোনা ভাল। বহু পুরনো কথা। কিন্তু বেদবাক্য। মাঝেমধ্যে শুনতেও তো ইচ্ছে করে নাকি! কিন্তু দিনের শেষে সবাই একা। ছাপার অক্ষরে লেখা কথাগুলোয় যে আবেগ, অনুভূতি রয়েছে সেগুলো যদি আপনাকে শোনাবার জন্য কেউ পড়ে? হিউম্যান লাইব্রেরিতে এমনটাই হয়। হিউম্যান লাইব্রেরির শিকড় কোপেনহেগেনে থাকলেও বিংশ শতকে ভারতে আসে এই অভিনব পাঠাগার। প্রথমে ইন্দোরে। ধীরে ধীরে নয়া দিল্লি, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, মুম্বই, পুনে, ভুবনেশ্বর, চেন্নাই, রোহতক, চণ্ডীগড়, সুরাট হয়ে কলকাতার মাটিতে পা রেখেছিল হিউম্যান লাইব্রেরি। এই শহরে শুরু করেছিলেন দেবলীনা সাহা। বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার আলোচনা কিংবা ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনার আদানপ্রদানও হতো এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। এবার দ্বিতীয় অধ্যায়ের পালা। আবারও চালু হতে চলেছে এই অভিনব পাঠাগার। আগ্রহীদের জন্য শুরু হয়েছে নাম, ঠিকানা নথিভুক্ত করার কাজ। আপনিও যদি হিউম্যান লাইব্রেরির অংশ হতে চান, তাহলে ঢুঁ মেরে আসতেই পারেন তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।
বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে যদি আপনার নিবিড় সম্পর্ক হয়, আধুনিকতার জেরে যদি অভিনব উপায়ে বইয়ের স্বাদ নিতে চান, তাহলে যোগ দিতেই হবে এই লাইব্রেরিতে। বলতে পারেন, এবার আপনার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পালা।