নিউজপোল ডেস্ক: গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন যুবরাজ সিং। লড়াইয়ের ময়দানে তিনি ‘যুবরাজ’-ই বটে। ক্যানসারের মতো মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করে আবারও ২২ গজে প্রত্যাবর্তন। তবে তিনি যে মাঠে ফিরবেনই, তা আন্দাজ করেছিলেন চিকিৎসক নীতেশ রোহতগি। প্রথম সাক্ষাতেই কেন তাঁর এমন মনে হয়েছিল, তার নেপথ্যেও রয়েছে রাজকীয় কাহিনি।
২০১১ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে যুবরাজের অভাবনীয় সাফল্য। প্রতিযোগিতার ম্যান অফ দ্য সিরিজ হয়েছিলেন যুবরাজ। কিন্তু ইতিমধ্যেই তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছিল মেডিয়াস্টিনল সেমিনমা। দুর্লভ ক্যানসারের শিকার হলেন তিনি। সেই সময়ে যুবরাজের চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন নীতেশ রোহতগি। এই খবর শুনে প্রথমেই চিকিৎসকের মনে হয়েছিল, ক্রিকেট মাঠে আর হয়তো ফিরতে পারবেন না যুবরাজ। নীতেশ বলেন, ‘প্রথম দেখা হল যেদিন, সামনাসামনি কথা হওয়ার পর বুঝলাম, ওঁকে কেউ আটকাতে পারবে না। ফিরবেই।’ ফিরেওছিলেন, সেদিনের অনুমান ভুল ছিল না।
যুবরাজের সুস্থ হয়ে ওঠার পেছনে সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলেছিল তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব। যে কোনও জায়গায়, চেনা হোক অথবা অচেনা, মানুষের সঙ্গে ভাব জমাতে সময় লাগত না তাঁর। তারপর চলতো খোশগল্প। ‘সমস্যায় পড়েছেন বারবার। কিন্তু চোখেমুখে তার ছাপ দেখিনি কোনওদিন। কাঁদতে দেখিনি’, জানালেন নীতেশ। চিকিৎসা চলাকালীন ভেঙে পড়েননি কখনও। বরং উৎসাহ নিয়ে প্রথমদিনেই চিকিৎসকের কাছে জানতে চেয়েছিলেন ক্যানসারের খুঁটিনাটি। চিকিৎসা চলাকালীন বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা ছাড়াও টেবিল টেনিস খেলতেন এবং টিভিতে হাসির অনুষ্ঠান দেখতে পছন্দ করতেন যুবরাজ। তবে সবথেকে বেশি সময় কাটাতেন ক্রিকেট খেলা দেখে। তাঁর এই মানসিক জোরই যে তাঁকে ফিরিয়ে এনেছিল ক্রিকেট ময়দানে, সেকথা স্বীকার করেন চিকিৎসক রোহতগিও। তিনি বলেন, ‘নিষ্ঠুর বাস্তবকে অস্বীকার করেননি কোনওদিন। লড়াই থেকে আবার সরেও যাননি কখনও। এটাই যুবরাজের বিশেষত্ব। সমস্যার মুখোমুখি হয়ে লড়াই করার প্রবণতাই তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে জীবনে।’
কিন্তু ক্যানসার বলে কথা, মারণরোগ। তারপর সদ্য দেশকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ঘরে ফেরার পরই এই দুঃসংবাদ। মেনে নেওয়া সহজ ছিল না। যুবরাজ নিজে বলেছেন, ‘২০১১ বিশ্বকাপ জেতা, ম্যান অফ দ্য সিরিজ হওয়া, ৪টি ম্যান অফ দ্য ম্যাচের সম্মান, এগুলো আমার কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। এরপরই আমার ক্যানসার ধরা পড়ল। এক মুহূর্তের জন্য মনে হল, আকাশ থেকে মাটিতে পড়লাম যেন। সবকিছু ঝড়ের গতিতে বদলাচ্ছিল। আবার এমন একটা সময়ে, যখন আমার ক্রিকেট জীবনের সেরা সময় চলছিল।’ তাতে কী? ঘুরে দাঁড়ানো তো যুবরাজের স্বভাবেই। ক্রিকেট থেকে যে জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছেন, সে কথা একাধিকবার জানিয়েছেন তিনি। ড. রোহতগি বলেন, ‘যুবরাজের লক্ষ্যই ছিল ক্যানসারকে হারিয়ে জীবনে প্রত্যাবর্তন করা।’ তা প্রমাণ করেছেন যুবরাজ। পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ছাড়াও চিকিৎসক রোহতগি ও লরেন্সের অবদানের কথা স্বীকার করেছেন যুবরাজ। মুম্বইয়ে অবসর ঘোষণার মঞ্চ থেকে যুবরাজ বলেন, ‘অনেক কিছু শিখিয়েছে ক্রিকেট। কীভাবে লড়তে হয়, কীভাবে পড়তে হয়, আবার ধুলো মেখে কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়, তা শিখিয়েছে ক্রিকেট।’ এখন যুবরাজ নিজেই একটা অধ্যায়। লড়াইয়ের অধ্যায়।