নিজস্ব সংবাদদাতা:‌ কী প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দুই থেকে ১৮ আসনে পৌঁছেছে বিজেপি?‌ এর উত্তরে যে কেউ বলবেন হিন্দুত্ববাদ। সহজভাবে বললে হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষার লড়াইয়ের কথা প্রচার করেই বাংলায় শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। এছাড়াও সারা দেশে নিজেদের হিন্দুত্ববাদী দল হিসেবে তুলে ধরতে কোনও ত্রুটি রাখেনি বিজেপি। অথচ সেই দলের পশ্চিবঙ্গের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক হিন্দুবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ উঠে গেল মঙ্গলবার। সোশ্যাল মিডিয়াই ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওয় শোনা যাচ্ছে দিলীপ বলছেন, ‘‌হিন্দু অনেক মরেছেন, আরও কিছু মরুন। কেন কষ্ট পাচ্ছেন?‌’‌ এক বিজেপি সমর্থক কৃষ্ণনগরে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বিষয় জানিয়ে দিলীপ ঘোষের সাহায্য চান। তার উত্তরেই রেগে গিয়ে দিলীপ বলেন, ‘বিজেপি হারল কেন ওখানে?‌’‌ উত্তরে ওই সমর্থক বলেন, ‘‌ওখানে আমাদের সংগঠন ছিল না। আমাদের ভোটারদের আটকে দেওয়া হয়।’‌ যার পাল্টা দিলীপ বলেন, ‘‌সংগঠন কে করবে?‌ স্থানীয় হিন্দুরা করবেন, নাকি আমি গিয়ে করব?‌ মরছে মরুক না,আপনি এত কষ্ট পাচ্ছেন কেন?‌ কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা প্রতি কোনও মায়া নেই। ওরা জুলুবাবুকে হারিয়েছে। কল্যাণকে দিলাম, ওঁকেও হারালো। কী কারণে ওদের জন্য করব আমরা?‌’ ‌

এরপর পাশের একটি লোকসভা কেন্দ্রের (‌সম্ভবত বনগাঁ) উদাহরণ টেনে দিলীপ বলেন, ‘‌আপনাদের পাশের লোকেদের দেখুন, ওঁরা প্রায় আড়াই লক্ষ ভোটে আমাদের জিতিয়েছেন।’‌

‌সোশ্যাল মিডিয়াতে এই বক্তব্য আসার পরই বিজেপির রাজ্য সভাপতির সমালোচনা শুরু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই লিখছেন, হিন্দুদের স্বার্থরক্ষার বিষয়টা আসলেই ভোটে জেতার অস্ত্র। ভোট শেষ, তাই হিন্দুরা মরুন বা বাঁচুন, তা নিয়ে ভেবে বিশেষ লাভ নেই বিজেপির।

সোশ্যাল মিডিয়াতে দিলীপ ঘোষের বক্তব্যের ব্যাপারে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, ‘‌ভিডিওটি সঠিক নয়। দিলীপদার বক্তব্যকে ওখানে ভুলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মাঝখান থেকে একটা অংশ কেটে নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে এরকম প্রচার করা হচ্ছে। দিলীপদার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। তবে যেটুকু শুনেছি, তাতে উনি বলেছেন, ভোট না দিলেও কৃষ্ণনগরের হিন্দুদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। বাংলার হিন্দুদের পাশে বিজেপি সবসময় আছে।’‌

বিধানসভায় বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী পুরো বিষয়টি নিয়ে নিউজপোলকে বলেন, ‘এ সব পাগলের প্রলাপ নিয়ে কিছু বলার থাকতে পারে না। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি ভোটের জন্য বিজেপি হিন্দুত্বের তাস খেলে। কারও ভাল করার ইচ্ছা ওদের নেই।‌’ ‌

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অবশ্য দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে কোনও রকম মন্তব্য করেননি। তিনি নিউজপোলকে বলেন, ‘‌এ বিষয়ে যা বলার পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলবেন।’‌

নিউজপোল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি