নিউজপোল ডেস্ক: সম্প্রতি পুরুলিয়ায় ধর্ষণ এবং অত্যাচারের পর খুন হয়েছে এক নাবালিকা। মনিকা মাহাত নামক দ্বাদ্বশ শ্রেণীর এই ছাত্রী গত ৩ মে পড়তে গিয়েছিল টিউশনে। তারপর থেকেই নিখোঁজ হয় সে। গত ১০ মে পুরুলিয়ার জমিরটিলার জঙ্গলের কাছে মাটি চাপা অবস্থায় পাওয়া যায় মনিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের ক্ষোভ, এই ঘটনার পর কেউই তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। ভোটের ফলাফল এবং ইভিএম বিতর্ক নিয়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলের নেতাদের কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যায়নি।

পড়াশোনার জন্য বান্দোয়ানে জেঠুর বাড়িতে থাকত মনিকা। ৩ মে টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু রাত পর্যন্ত সে বাড়ি না ফেরায় তার নিখোঁজ হওয়ার খবর জানানো হয় পুলিশকে। পুলিশ সূত্রে খবর, মনিকার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কামড়ের দাগ রয়েছে। ময়নাতদন্তে জানা গেছে, মনিকার শরীরের বেশিরভাগ হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল ভারি কিছুর আঘাতে। খুনের আগে তার ওপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে এবং তাকে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। মনিকার পরিবারের দাবি, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাকে। অভিযোগের ভিত্তিতে মনিকার দুই সহপাঠীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত শনিবার ১৮ মে আদিবাসী জনজাতি কুড়মী সমাজের এক প্রতিনিধি দল বান্দোয়ানে গিয়ে মনিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। বাগমুন্ডির কুড়মী বিধায়ক নেপাল মাহাতোর সঙ্গে দেখা করে এই ঘটনার কথা তাঁকে জানান। নেপালবাবু অশ্বাস দিয়েছেন, ন্যায়বিচারের জন্য লড়বেন। প্রয়োজন হলে বিধানসভায় তুলে ধরবেন ঘটনাটি। কুড়মী সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অশোক মাহাতও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কাজের কাজ কতটা হচ্ছে, সন্দেহ নিগ্হীতার পরিবারের।