নিউজপোল ডেস্ক: ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে দু’টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে ১৮। বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর তৃণমূলের প্রতি যে বিমুখ, সেটা পরিষ্কার। কিন্তু ঠিক কী কী কারণে বাংলার মানুষ আস্থা হারালেন ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সরকারের ওপর থেকে? দেখে নেওয়া যাক কী মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

  • রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, সংখ্যালঘুদের অযাচিত মনোযোগ এবং সুবিধা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইমাম ভাতা থেকে শুরু করে মহরমের মিছিলের জন্য দুর্গাপুজোর ভাসান পিছিয়ে দেওয়া, কোনওটাই মানুষ খুব ভাল ভাবে নেননি। এই ধরনের পদক্ষেপ অনেকের চোখেই ‘মুসলমান তোষণ’।

  • বিভিন্ন রকম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, রাজ্যের প্রত্যেক জেলাতে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছনোর আগেই ঢুকে গেছে নেতাদের পকেটে। ‘আবাস যোজনা’ থেকে ‘নির্মল গ্রামের শৌচালয়’— বিভিন্ন প্রকল্পেই দুর্নীতি করেছেন তৃণমূল নেতা।
  • অনুদানের ক্ষেত্রেও জানা গেছে, নেতাদের কাছের লোক হলে পাওয়া গেছে অনুদান, পয়সা দিয়ে পাওয়া গেছে সুযোগসুবিধে। কিছু ক্ষেত্রে গিলে নেওয়া হয়েছে সমস্ত টাকাই।

  • ইতিহাস বলছে, সিপিএম-এর দাদাগিরি বন্ধ করতে মানুষ ক্ষমতায় এনেছিলেন তৃণমূলকে। পরিস্থিতির কিন্তু কোনও পরিবর্তন হয়নি। মানুষ একই দাদাগিরির সম্মুখীন হয়েছেন তৃণমূল জমানাতেও। বিশেষত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবহার নিয়ে অভিযোগ রয়েছে দলীয় কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ সকলেরই।
  • পঞ্চায়েত ভোটে কারচুপি এবং মানুষকে ভোট দিতে না দেওয়া মানুষ কোনও ভাবে মেনে নেয়নি। লোকসভায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েই তাঁরা তৃণমূল বিরোধী মতামত প্রকাশ করেছেন।

  • রাজ্যকে বিরোধী শূন্য করার প্রচেষ্টাকে সাধারণ মানুষ এবং অনেক তৃণমূল নেতাও খুব ভালভাবে মেনে নেননি। ২০১৬ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জিতে আসার পরও বাম এবং কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতাদের সাংসদ, বিধায়ক করেছেন নেত্রী। এতে উপেক্ষিত বোধ করেছেন তৃণমূলের বহু প্রবীণ নেতা।
  • বাম বিরোধিতা করার সময় যে সমস্ত নেতাদের পাশে রেখেছিলেন মমতা, আজ তাঁদের অনেককেই পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই নেতাদের একাংশ এইবারের লোকসভা নির্বাচনে সুযোগ পেয়ে সেই ক্ষোভ মিটিয়েছেন।
  • বালাকোট হামলার প্রমাণ চাওয়াটাকে ভারতীয় সেনার বিরোধিতা বলে মনে করেছেন অনেকে। এতে চিড় ধরেছে মমতা এবং তৃণমূলের দেশাত্মবোধক ভাবমূর্তিতে।

  • ‘তিন তালাক’ সরকারি ভাবে অবলুপ্ত হওয়ার পর সেটার বিরোধিতা করে মুসলমান মহিলাদের বিরাগভাজন হয়েছেন মমতা। তাঁদের ভোটো হয়তো তৃণমূলের বিরুদ্ধে গেছে।
  • রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পুলিশ কমিশনারের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে ধর্নায় বসা, ‘জয় শ্রীরাম’ বলার অভিযোগে বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করা— প্রমাণ করেছে শাসক দলের অসহিষ্ণুতা। মানুষের কাছে বার্তা গেছে, শাসক দলের বিরোধিতা করলেই শাস্তি পেতে হবে। তৃণমূলকে খানিকটা চাপে রাখার জন্যই ভোটে মানুষের এই রায়।