নিউজপোল ডেস্ক: কালীপুজোয় উপকরণ হিসেবে কারণ এবং সিদ্ধির চল বহুদিনের। কিন্তু পুরোহিতের উচ্ছিষ্ট খাবার দেবতার নৈবেদ্য! এরকমও হয়? শুধু তাই নয়, এই দেবতার নৈবেদ্যর তালিকায় আছে সিগারেট আর দেশি মদের পাউচ, তাও পুরোহিতের এঁটো করা। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম এবং ঝাড়খণ্ডে রাজ্যের সীমান্তে আম্বা গ্রামের বাদ্যকর-ডোম সম্প্রদায়ের মানুষের পূজিত দেবতা এঁটুঠাকুর। পুরোহিতের এঁটু (এঁটো) খাবার দিয়েই নৈবেদ্যর থালা সাজানো হয় তাঁর। লাগে না কোনও ফলমূল, ফুল, বেলপাতা। ওই সম্প্রদায়ের কুলদেবী মনসা এবং কুলদেবতা এঁটোঠাকুর। ঠাকুরের বিগ্রহ বলতে তিনটি গোল পাথর। দু’পাশে দুটি বড় মাটির ঘোড়া। ভাদ্র সংক্রান্তিতে ধূমধাম করে মনসাপুজো হয়। আর ঠিক তার পরের দিন, ১ আশ্বিন এঁটোঠাকুরের পুজো।

পুরোহিতের গলায় ঝোলানো আলুর চপের মালা।

বরণডালায় থাকে আয়না আর চিরুণি। পুরোহিত আয়না দেখে চুল আঁচড়ে তারপর পুজো শুরু করেন। ডাল, বেগুনি, নানা ধরনের তরি-তরকারি হল ভোগ। নিত্যপুজোও হয় এই দেবতার। দেশি মদ এবং সিগারেটও আছে ভোগের তালিকায়। পুজোর সময় পুরোহিতের গলায় ঝোলানো থাকে আলুর চপের মালা, মদের পাউচ ‘তুফান’। হাতে চিমটে, পরনে লাল বস্ত্র, মাথায় লাল কাপড়ের ফেটি এবং কপালে সিঁদুরের টীকা নিয়ে পুজো শুরু করেন পুরোহিত। চপের মালা থেকে একটা একটা চপ একটু করে খেয়ে বাকিটা এঁটোঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়। কিছু অবোধ্য ঝাড়খণ্ডি শব্দ সুর করে মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। তুফানের পাউচ থেকে এক ঢোক মেরে বাকিটা ঠাকুরের পায়ে। সিগারেটে দু’ টান দিয়ে সেটাও দেবতার পায়ে দেন পুরোহিত। প্রসাদ পেতে একেবারি ধাক্কাধাক্কি পড়ে যায়।