নিউজপোল ডেস্ক: মাত্র কয়েক বছর আগের ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের রাজত্বের অবসান ঘটেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মা-মাটি-মানুষ’-এর সরকারের হাত ধরে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল বলছে, বাংলায় শক্ত ঘাঁটি গাড়ছে বিজেপি। তাহলে কি ফের পালা বদলের পালা? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তৃণমূলের এই পিছিয়ে পড়ার কারণগুলি অনেকটাই মিলে যাচ্ছে বামফ্রন্টের শেষ সময়ের সঙ্গে।
  • পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৪ শতাংশ আসন পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু তারপরেও সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উন্নয়নের প্রচার করে বাস্তবে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এমনকী মুর্শিদাবাদের মতো জেলাতেও চলেছিল বুথ আটকানো এবং ব্যাপক সন্ত্রাস। ভোট দিতে না পাড়া মানুষের পাশে সেদিন দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। ফলাফল বলছে, সেই পাশে দাঁড়ানোর মূল্য পেয়েছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি আসনে হার হয়েছে তৃণমূলের।
  • দাদাগিরি এবং তোলাবাজি
বাংলার মানুষের তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার প্রধান কারণ ছিল তৎকালীন শাসকদলের দাদাগিরি বন্ধ করা। শাসকদল বদলালেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। দাদাগিরি থেকে তোলাবাজি, বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা তছরুপ, কাছের লোকজনকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া সবই চলছে বহাল তবিয়তে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেই কারণেই তৃণমূলের থেকেও দূরে সরতে শুরু করেছে জনগণ।
  • আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক
আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে উন্নয়নের হার তুলনামূলক ভাবে কম। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখা হয়নি সেসব। তফসিলি এবং অন্যান্য আদিবাসী অধ্যুষিত চারটি কেন্দ্র ঝাড়গ্রাম, আলিপুরদুয়ার, বনগাঁ এবং রাণাঘাটের ভোট তাই গেছে বিরোধী শিবিরে। মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটও তৃণমূলের বিরুদ্ধে গেছে বলে অনুমান।
  • প্রশাসন নির্ভরশীলতা
ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পর থেকেই তৃণমূলের দলীয় সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত হন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। এমনটাই জানাচ্ছেন তৃণমূলেরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু নেতা। বামফ্রন্টের সময় সাংগঠনিক ক্ষেত্রে, এই ধরনের প্রশাসনিক নির্ভরতা এসেছিল অনেক পরে, প্রায় শেষের দিকে। কিছু হলেই পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার স্বভাবে প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে গেছে তৃণমূলে। হ্রাস পেয়েছে সাংগঠনিক দক্ষতা। ফলাফল হিসেবে, সিবিআই-এর সঙ্গে পুলিশ কমিশনারের গ্রেফতারি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংঘর্ষ। সমস্ত কিছুই প্রভাব ফেলেছে এই নির্বাচনে।