নিউজপোল ডেস্ক: সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার শিশু হাসপাতালের গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন এরকমই এক অভিনব উপায়। মানব ভ্রূণ পালন করা যায় এরকম কৃত্রিম গর্ভ আবিষ্কার করেছেন তাঁরা। বর্তমানে তাঁরা এফডিএ-র (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন আগামী দু’বছরের মধ্যে এই পরীক্ষা করার জন্য। এঁরা সফল হলে যে মানব জন্মের পুরো প্রক্রিয়াই যুগান্তকারী ভাবে বদলে যাবে, সেটা বলাই বাহুল্য।

কৃত্রিম গর্ভে ভ্রূণ থাকলে, অপর আর একটি মানুষের জীবনে কোনও প্রভাব না ফেলেই ভ্রূণটিকে প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অ্যানা স্মাডর। কিছু দিক থেকে সেটা ভ্রূণের জন্য উপকারী হবে বলেই তাঁর ধারণা। এটা ছাড়াও এই প্রক্রিয়ার আরও অনেক উপকারিতাই রয়েছে। দুরারোগ্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা থাকলেও এবার মা হওয়া সম্ভব। এবং সেক্ষেত্রে কোনও সারোগেট মায়ের সাহায্যও নিতে হবে না। বিশেষত, সার্ভিকাল সমস্যার ক্ষেত্রে, যেখানে মায়ের ডিম্বাণু ঠিক থাকলেও জরায়ু সন্তানধারণে অক্ষম হয়ে থাকে, সেই সব মহিলাদের জন্য এই প্রক্রিয়া খুবই উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।


সন্তান গর্ভে আসা মাত্র তাকে এই কৃত্রিম গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হবে। সেখানে তার প্রয়োজন অনুসারে দেওয়া হবে সেরা পরিষেবা। পাশাপাশি, ন’মাসের শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে না কোনও মহিলাকে। অনেকসময়ই দেখা যায়, অন্তঃসত্ত্বা জানার পরই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় মহিলাদের। বা সন্তান জন্মের পর বহুদিন চাকরিহীন থাকার কারণে নতুন করে কাজ পাওয়া সমস্যা হয় মেয়েদের ক্ষেত্রে। জীবনের ছোটবড় আরও অনেক পরিবর্তনই হয়, যার বেশিরভাগটাই ঘটে মহিলাদের জীবনে। এই প্রক্রিয়া যে সেই সবকে সরিয়ে দিচ্ছে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা থেকে, সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।