নিউজপোল ডেস্ক: বড় আইআইটি কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সাধ ছিল রমেশকুমার সোনির। দুর্ভাগ্যবশত তা হয়ে ওঠেনি। প্রস্তুতির সময় তাঁর পরিচয় হয় ন্যানো-প্রযুক্তির সঙ্গে। হতাশা দূরে সরিয়ে রেখে চেন্নাইয়ের এসআরএম বি-টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ন্যানো-প্রযুক্তি নিয়েই পড়াশোনা করেন তিনি। সেই রমেশই আজ বানিয়ে ফেলেছেন অ্যাটমোস্ফেরিক ওয়াটার জেনারেটর (এডব্লুজি) বা বায়ুমণ্ডলীয় জল উৎপাদক। তাঁর এই এডব্লুজি যন্ত্র চারপাশের আর্দ্র বায়ুকে পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং পানযোগ্য জলে পরিণত করতে পারে। আইআইটি ম্যাড্রাসের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক টি প্রদীপ এবং পিএইচডি ছাত্র অঙ্কিত নাগরের সহযোগিতায় বানানো এই যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বায়ুজল’।

চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুতে এখন প্রবল জলকষ্ট। সেই পরিপ্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে বায়ুজল নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। রমেশ জানিয়েছেন, এখন জলের জোগান তলানিতে ঠেকেছে। আর ক’বছরে ভূগর্ভস্থ জলও শুকিয়ে যাবে। বাড়ি বাড়ি বায়ুজল থাকলে জলের জন্য সরকার বা পুরসভার মুখাপেক্ষী হতে হবে না। সামান্য বিদ্যুৎশক্তি বা সৌরশক্তিতেই কাজ করবে এই মেশিন। বিদ্যুৎ বিলের মাত্রা যদি ইউনিট প্রতি ৬ টাকা হয়, তবে প্রতি লিটার জল উৎপাদনে দেড় থেকে তিন টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন রমেশ। এখনও অবধি মোট পাঁচটি বায়ুজল মেশিন বানিয়েছেন তাঁরা, যার মধ্যে চারটি দিনে ১০০ লিটার জল উৎপন্ন করতে পারে এবং আর একটি একাই ৫০০ লিটার জল উৎপাদনের ক্ষমতা রাখে।

এই যন্ত্র কেমন অর্থাৎ এর প্রযুক্তি কী? অত্যন্ত সহজভাবে বুঝিয়ে দিলেন রমেশ কুমার। বাতানুকূল যন্ত্র ঘরের ভেতরের হাওয়া ঠান্ডা করে গরম হাওয়া বাইরে ছাড়ে। সেই সঙ্গে পাইপের মাধ্যমে বেশ খানিকটা জলও নির্গত হয়। এই প্রযুক্তিকেই আর একটু ঘষামাজা করে বানানো হয়েছে বায়ুজল। তিনি জানিয়েছেন, এর দামও রাখা হবে আমজনতার সাধ্যের মধ্যেই। আর সামান্য দেখভালেই অনায়াসে ১০-১৫ বছর কাজ করবে তা। ভাবুন তো, দেশের সবার কাছে থাকবে জল তৈরির যন্ত্র!