নিউজপোল ডেস্ক:‌ রেলের চাকরি কি যে সে কথা!‌ বছরের পর বছর ছেলে–মেয়েরা পরীক্ষা দিয়ে চলে। তবু শিকে ছেঁড়ে না। অথচ এই বেবুন কিন্তু একবারেই সফল। রীতিমতো পরীক্ষা দিয়ে সে রেলের চাকরি পেয়েছিল। তারপর টানা ন’‌ বছর সেই চাকরি করেছিল। সপ্তাহান্তে পেয়েছিল বেতন।
আঠেরো শতকের শেষের দিকের ঘটনা। প্রেক্ষাপট দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের উইটেনহেজ স্টেশন। যাত্রীরা দেখতেন, সেই স্টেশনে সিগনাল দিচ্ছে এক বেবুন। দেখে রীতিমতো চমকে যেতেন। বেবুন থুড়ি জ্যাক যদিও মন দিয়ে নিজের কাজটা করে যেত। আর এজন্য সপ্তাহ শেষে মাইনে হিসেবে পেত ২০ সেন্ট আর আধ বোতল বিয়ার।
জ্যাককে কাজে রেখেছিলেন জাম্পার। পোর্ট এলিজাবেথ রেলওয়ে সার্ভিসের একজন কর্মচারী। জাম্পারের ঝোঁক ছিল, একটি চলন্ত ট্রেনে থেকে অন্য ট্রেনে ঝাঁপ দেওয়া। ১৮৭৭ সালে একদিন এরকম করতে গিয়েই ট্রেনের নীচে পড়ে যান জাম্পার। তাঁর দু’‌টি পা কেটে বাদ দেন চিকিৎসকরা। সেই জায়গায় কাঠের পা লাগানো হলেও লাভ হয়নি। আগের মতো আর কাজকর্ম করতে পারছিলেন না তিনি।
এরপর একদিন জাম্পার কাছের এক বাজারে যান। সেখানে গিয়ে তিনি একটি বেবুন দেখতে পান। বেবুনের কাজকর্ম দেখে বেশ বুদ্ধিমান মনে হয় জাম্পারের। তাই সেটি তিনি কিনে নিয়ে আসেন। নাম রাখেন জ্যাক। অল্পদিনেই তার সঙ্গে জাম্পারের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। জ্যাক ট্রলি করে জাম্পারকে বাড়ি নিয়ে যেতেন। আবার কাজের সময় স্টেশনে নিয়ে আসতেন।
প্রথম প্রথম জাম্পার নিজে সিগনাল দিতেন ও লিভার ঠেলতেন। আর জ্যাক সেটা দেখত। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাজটা বুঝে যায় জ্যাক। তার পর থেকে এসব কাজ জ্যাক নিজেই করত। বিষয়টি মোটেও ভালভাবে দেখেননি যাত্রীরা। তাঁরা রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করে জানান, এতে যাত্রী সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। রেলের আধিকারিকরা এর পর জ্যাক এবং জাম্পারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
জাম্পার তাঁদের অনুরোধ করেন, একবার অন্তত জ্যাকের পরীক্ষা নেওয়া হোক। এরপর রেলের আধিকারিক একজন চালককে হর্ন বাজিয়ে ট্রেন নিয়ে আসতে বলেন। জ্যাক রেলের সিগনাল পরিবর্তন থেকে শুরু করে লিভার পরিবর্তন— সব কিছুই নির্ভুলভাবে করে পরীক্ষায় পাশ হয়। তারপর জ্যাক এবং জাম্পার দু’‌জনকেই রেলের চাকরিতে বহাল করা হয়। জ্যাকই হচ্ছে একমাত্র বেবুন, যে রেলের চাকরি করেছে।
জ্যাক একটানা ৯ বছর রেলের চাকরি করে। তার পর যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। জ্যাক মারা গেছে ঠিকই, কিন্তু তার মাথার খুলিটি আজও সংগৃহীত রয়েছে গ্রাহামসটাউনের অ্যালবানি মিউজিয়ামে।