নিউজপোল ডেস্ক: প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে নানান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সারা দুনিয়ায়। কে না জানে, প্লাস্টিকজাত দ্রব্য যুগের পর যুগ অবিকৃত থাকে এবং প্রকৃতির ক্ষতিসাধন করে। এ কারণে, প্লাস্টিক প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি বায়ো-ডিগ্রেডেব্‌ল প্লাস্টিক বানানো শুরু করেছে। বায়ো-ডিগ্রেডেব্‌ল মানে যা প্রকৃতিতে মিশে যেতে পারে। এর আবার নানান প্রকারভেদ আছে। কিছু প্রকৃতিতে মিশে যায়, কিছু মিশ্র সার হয়ে যায়, কিছু আবার অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে তবেই মিশতে পারে। যাই হোক, মোদ্দা কথা এ ধরনের প্লাস্টিক ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু ব্রিটেনের প্লিমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা বলছে এ কথা আদৌ সত্যি নয়। বায়ো-ডিগ্রেডেব্‌ল বলে দাবি করা প্লাস্টিকগুলি তিন বছর ধরে মাটির নীচে বা সমুদ্রের তলায় থেকেও এতটুকু বিকৃত হয়নি।

গবেষণা পত্রটির দুই লেখক ইমোজেন নাপের এবং রিচার্ড থম্পসন বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক ব্যাগ নিয়ে এক পরীক্ষা চালান। মাটির নীচে, সমুদ্রের তলায়, এবং বাইরে আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে বেশ কিছু প্লাস্টিক ব্যাগ রেখে দেন তাঁরা। তিন বছর পরেও সেই প্লাস্টিক ব্যাগ অন্তত দু’কেজি মালপত্র বহন করতে সক্ষম হচ্ছে। অর্থাৎ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির দাবি আদৌ সত্য নয়। প্লাস্টিক তৈরি হয় পলিমার যৌগ থেকে। পলিমার যৌগের হাজার হাজার পরমাণু শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। এর অণুর আকার অত্যন্ত বড় হওয়ার কারণেই প্লাস্টিক এত মজবুত এবং নমনীয় হয় এবং প্রকৃতিতে মিশে যেতে পারে না। বৈজ্ঞানিক উপায়ে অণুগুলির শক্তি কমিয়ে দিয়েই তৈরি হয় বায়ো-ডিগ্রেডেব্‌ল প্লাস্টিক। কিন্তু সেই পদ্ধতিতে যে গলদ রয়ে গেছে তা প্রমাণ করছে এই সাম্প্রতিক গবেষণা।