নিউজপোল ডেস্ক:‌ রাষ্ট্রসঙ্ঘ ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, জলবায়ুর পরিবর্তন সবথেকে বেশি বিপাকে পড়বে গরিবরা। রাষ্ট্রসঙ্ঘেরই নতুন একটি রিপোর্ট বলছে, শুধু বিপদ নয়, জলবায়ুর পরিবর্ত দারিদ্র‌্যও ডেকে আনবে। ১০ বছর পর ১২ কোটি মানুষ আরও গরিব হবে শুধুমাত্র জলবায়ুর কারণে।
দিন দিন জলবায়ুর পরিবর্তন আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। মেরুতে বরফ গলছে। সমুদ্রে জলস্তর বাড়ছে। সাইক্লোন, হ্যারিকেন আকছার আছড়ে পড়ছে। প্রাণ কাড়ছে শত শত মানুষের। খরা, জলকষ্টের কারণে বন্ধ হচ্ছে জরুরি পরিষেবা। সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, এই সব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেই ক্রমে ঘর ছাড়তে বাধ্য হবেন গরিবরা। না খেয়ে মরতে বাধ্য হবেন। রাষ্ট্রসঙ্ঘে দারিদ্র‌্য এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন ফিলিপ অ্যালস্টন। তিনি জানিয়েছেন, এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের অর্থের জোরে রেহাই পাবেন ধনীরা। যেমন এসি চালিয়ে তাঁরা গরম থেকে বাঁচেন। দামি হলেও খাবার কিনতে অসুবিধা নেই তাঁদের। সমস্যা বুঝলে দেশ ছেড়ে পালাতেও পারেন। কিন্তু গরিবরা এর কোনওটাই পারবেন না।
অ্যালস্টন রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলবায়ু সংক্রান্ত রিপোর্টে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছএন। ২০১২ সালে নিউ ইয়র্কে আছড়ে পড়ে হ্যারিকেন স্যান্ডি। তখন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো দিনের পর দিন বিদ্যুৎ, জরুরি পরিষেবা ছাড়াই কাটিয়েছেন। অথচ ম্যানহাটনে গোল্ডম্যান স্যাক–এর সদর দফতরে জেনারেটর দিয়ে আলো জ্বালানো হয়। বিল্ডিংটির এতটুকু ক্ষতি হয়নি। কারণ হাজার হাজার বালির বস্তা দিয়ে আটকানো ছিল।


স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, এই কারণে দেশে দেশের বিভেদ বাড়বে। গরিব দেশ বেশি সমস্যায় পড়বে। ধনী দেশগুলোর পার পেয়ে যাবে। তারা টাকা খরচ করে হ্যারিকেন, খরা থেকে বাঁচার পথ খুঁজে নেবে। গরিব দেশ মরবে। কারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তাদের ফসল নষ্ট হবে। গরিব দেশের মানুষরা মূলত কৃষিকাজের ওপরেই নির্ভর করে। অ্যালস্টন এ বিষয়ে আর একটি জরুরি তথ্য তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন, দুনিয়ার কার্বন নিঃসরণের জন্য সবথেকে কম দায়ী গরিবরা। অথচ সবথেকে বেশি ফল ভোগে গরিবরাই। রাষ্ট্রসঙ্ঘ নিজেদের রিপোর্টে এও বলেছে, শুধু প্যারিস জলবায়ু চুক্তি করেই কার্বন লিঃসরণে লাগাম পরানো যাবে না। তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক মানুষকে এজন্য এগিয়ে আসতে হবে। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা এই চুক্তি মানবে না। সব দেশ এই পথে গেলে কিন্তু ধ্বংস খুব বেশি দেরি নেই। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২১০০ সালে দুনিয়ার উষ্ণতা গড়ে ১.‌৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। মনে রাখতে হবে গড়ে। কোনও কোনও অঞ্চলে কিন্তু অনেক বেশি তাপমাত্রা বাড়বে। সেক্ষেত্রে চাষাবাদ থেকে জীবনযাপন সবই প্রভাবিত হবে।