নিউজপোল ডেস্ক: বিশ্ব উষ্ণায়নের কোপ পড়তে চলেছে বাঙালির পাতে! প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষেভাবে তা-ই হতে চলেছে। ক্রমশ বাড়ছে পৃথিবীর উষ্ণতা। তার প্রভাব পড়ছে সমুদ্রের জলেও। তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণীরা যার একটা বড় অংশ মাছ। গবেষণায় জানা যাচ্ছে, ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের ১৭ শতাংশ প্রাণীবৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাবে। বাঙালির প্রিয় ইলিশ তো সামুদ্রিক মাছই। গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রকোপ তাকেও অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দেবে। একই দশা হতে পারে চিংড়ির ক্ষেত্রেও। ফলে আর কয়েক দশক পর বাঙালির প্রিয় তরজা ইলিশ-চিংড়ি আদৌ প্রাসঙ্গিক থাকবে কি না তাই বা কে বলতে পারে। মাছে-ভাতে বাঙালির জন্য এ নিঃসন্দেহে বড় দুঃসংবাদ।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস জার্নাল-এর হয়ে একদল মেরিন বায়োলজিস্ট পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এক গবেষণা করেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রতি এক ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধিতে পাঁচ শতাংশ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র বিলুপ্ত হবে। গবেষণা পত্রের সহ লেখক উইলিয়াম চিউং জানিয়েছেন, ‘ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সমুদ্রের সামগ্রিক জীবসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবর্তন চোখে পড়েছে।’ সমুদ্রের জলের উষ্ণতা বাড়ার ফলে শীতল রক্তের সরীসৃপ, উভচর প্রাণীরা প্রবল সমস্যায় পড়বে। জলে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই অম্লত্ব বৃদ্ধি পাবে ফলে অস্তিত্বের সংকটে পড়বে মাছেরাও। সারাবিশ্বে টুনা, সার্ডিন, ম্যাকারেল, ইলিশ, চিংড়ি এবং আরও বিভিন্ন প্রাণী খাদ্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত। ফলে শুধু বাঙালি নয়, সমস্যায় পড়বে সারা বিশ্ব।